ই-সিম (E-SIM) কি? কিভাবে ব্যবহার করবেন। বিস্তারিত

আমরা সকলের জানি প্রযুক্তি দিনদিন উন্নত হচ্ছে। সেই সাথে উন্নতি হচ্ছে আমাদের ব্যবহারিত জিনিসগুলো। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলাতে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে বিভিন্ন জিনিসের যা আমরা হয়তো আগে কল্পনাও করতে পারি নাই। প্রতিনিয়ত আমরা নতুন নতুন আবিষ্কার বা নতুন নতুন প্রযুক্তি দেখতে পাচ্ছি।

ঠিক তেমনি আজকে আমি আপনাদেরকে জানাবো প্রযুক্তির এক নতুন আবিষ্কার যা হলো এই ই-সিম। আমরা যে সাধারণ সিম গুলো এতদিন ব্যবহার করে আসতেছি বা ব্যবহার করতেছি তার একটি ডিজিটাল ভার্সন হচ্ছে এই ই-সিম। আজকে আমি আপনাদেরকে জানাবো ই-সিম কি? ই-সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ এবং কিভাবে আপনিও ই-সিম ব্যবহার করতে পারবেন।

ই-সিম কি?

E-SIM এর পূর্ণরুপ হল Embedded SIM.

ই-সিম হল ফিজিক্যাল সিম এর একটি ডিজিটাল ভার্সন। ফিজিক্যাল সিমের ডাটা গুলো যখন ইন্টারনেট ভার্সনে পরিবর্তন করা হবে তখন সেটা হবে ই-সিম।

এটা সাধারণ সিম এর মত আপনি হাতে ধরতে পারবেন না এবং চোখেও দেখতে পারবেন না। তবে এটা সাধারণ সিমের মত সম্পূর্ণ কাজ করবে।

আমি যদি আপনাদেরকে আরেকটু সহজ ভাবে বোঝাতে চাই তাহলে মনে করেন আপনার হাতে ১০০ টাকা আছে আর এখন এটা হচ্ছে ফিজিক্যাল মানি এবং আপনার বিকাশে ১০০০ টাকা আছে এটা হচ্ছে ইলেকট্রনিক মানি। সিমের ক্ষেত্রেও ঠিক এমন।

ই-সিম এর সুবিধা

প্রথমত,‌ এটা পরিবেশবান্ধব এবং খরচ সাশ্রয়ী। একটা ফিজিক্যাল সিম তৈরি করতে কিন্তু প্লাস্টিকের ব্যবহার করতে হচ্ছে প্লাস বিভিন্ন সার্কিট এর ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে যেমন এক্সট্রা জিনিসের ব্যবহার হচ্ছে ঠিক তেমনি মানুষের শ্রম দিতে হচ্ছে। কিন্তু ই সিমটা হচ্ছে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ। যেখানে সবকিছু সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ করা হয়। বাড়তি একটি খরচ বেঁচে যায়।

দ্বিতীয়ত, এটা যেহেতু ইলেকট্রনিক্স সিম তাই এটা হারানোর বা নষ্ট হওয়ার কোন কারণ নেই। তবে কিছু প্রবলেম হলে আপনাকে সরাসরি সিম কোম্পানির সাথে যোগযোগ করে ঠিক করে নিতে পারবেন।

তৃতীয়ত, ‌আপনি যেকোন জায়গায় বা যেকোনো ফোনে আপনার সিমের প্রোফাইলটি ইন্সটল করে সিমের সার্ভিস গুলো ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আপনাকে সিম পকেটে নিয়ে ঘুরতে হবে না।

এছাড়া ডিজিটাল সিম সাপোর্ট করে এমন ফোনে আপনি কয়েকটা ই-সিম ইন্সটল করে রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজন মতো আপনি সিমটি ব্যবহার করতে পারবেন।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে স্মার্টফোন নির্মাতাদের। যখন ডিজিটাল সিমের সেবাটি সকল জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে তখন তাদের ফিজিক্যাল সিমের জন্য এক্সট্রা কোন স্লট রাখতে হচ্ছে না। এতে তারা ডিভাইসটি আরো স্লিম, আরো সুন্দর আরো প্রোটেকটিভ করতে পারবে।

ই-সিম এর অসুবিধা

প্রথমত, এখনো পর্যন্ত সকল ফোনে এই ডিজিটাল সিমের সেবা নেওয়ার সিস্টেম দেওয়া হয় নাই এবং সকল সিম কোম্পানিও কিন্তু এখনো ডিজিটাল সিমের সেবা চালু করে নাই। বর্তমানে শুধুমাত্র দামি দামি ফ্লাগশিপ ডিভাইস গুলোতেই এই সার্ভিসটি ব্যবহার করা যাচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের শুধুমাত্র গ্রামীণফোন কোম্পানি এই সিমের সুবিধা দিচ্ছে। এছাড়া আপনি যে সকল ফোনে এই সিমের সুবিধা নিতে পারবেন তার একটি লিস্ট আমি নিচে আপনাদেরকে দিয়ে দিলাম।

দ্বিতীয়ত, যেহেতু এই সিমের সকল কার্যক্রম ইন্টারনেটের মাধ্যমে হচ্ছে এবং এটার প্রোফাইল ইন্টারনেট সার্ভারে জমা থাকবে। তখন কিন্তু হ্যাকারদের আপনার সিমটি হ্যাক করা অথবা আপনার তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হয়ে যাবে।

তৃতীয়ত, বর্তমানে গ্রামীণফোন তাদের সিম এর ক্ষেত্রে বলে দিয়েছে যে এক বছরে শুধুমাত্র দুইবারই সিমের কোডটি স্ক্যান করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি এক বছরে দুইটা ফোনে দুইবারই সিম টি ইন্সটল করতে পারবেন তবে পরবর্তী কোনো প্রয়োজন হলে আপনি তাদের সাথে কথা বলে এটা রিপ্লেস করে নিতে পারবেন।

বর্তমানে যে সকল ফোনে ই সিম ব্যবহার করতে পারবেন

অ্যাপল ফোন লিস্ট

  1. iPhone 14
  2. iPhone 14 Plus
  3. iPhone 14 Pro Max
  4. iPhone 14 Pro
  5. iPhone 13, 13 Pro, 13 Pro Max, 13 Mini
  6. iPhone 12, 12 Pro, 12 Pro Max, 12 Mini
  7. iPhone SE
  8. iPhone 11, 11 Pro, 11 Pro Max
  9. iPhone XS, XS Max
  10. iPhone XR
  11. iPad Pro 12.9‑inch (4th generation)
  12. iPad Pro 12.9‑inch (3rd generation)
  13. iPad Pro 11‑inch (2nd generation)
  14. iPad Pro 11‑inch (1st generation)
  15. iPad Air (4th generation)
  16. iPad Air (3rd generation)
  17. iPad (8th generation)
  18. iPad (7th generation)
  19. iPad mini (5th generation)

স্যামসং ফোন লিস্ট

  1. Samsung Galaxy S22 5G, Ultra 5G, S22
  2. Samsung Fold LTE model
  3. Samsung Z Flip 4
  4. Samsung Z Fold 4
  5. Samsung Galaxy Z Fold 3 5G
  6. Samsung Galaxy Z Flip 5G
  7. Samsung Galaxy Z Flip
  8. Samsung Galaxy Z Fold2 5G
  9. Samsung Galaxy Fold
  10. Samsung Galaxy S21+ 5G
  11. Samsung Galaxy S21 Ultra 5G
  12. Samsung Galaxy Note 20 Ultra, Ultra 5G
  13. Samsung Galaxy Note 20 FE 5G
  14. Samsung Galaxy Note 20 FE
  15. Samsung Galaxy S20, S20+ and S20 Ultra

গুগল পিকজেল ফোন লিস্ট

  1. Google Pixel 7 Pro
  2. Google Pixel 7
  3. Google Pixel 6 Pro
  4. Google Pixel 6
  5. Google Pixel 5a 5G
  6. Google Pixel 5
  7. Google Pixel 4a
  8. Google Pixel 4
  9. Google Pixel 3 & 3XL (Limited support)
  10. Google Pixel 2

আপনি কিভাবে ডিজিটাল সিম ব্যবহার করতে পারবেন

ডিজিটাল সিম ব্যবহার করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার কাছে একটি এই সিম সাপোর্ট করে এমন একটি ডিভাইস থাকতে হবে এবং বর্তমানে এই ডিজিটাল সিমের সেবা দিচ্ছে এমন একটি সিম আপনার কাছে থাকতে হবে। এরপর আপনি আপনার ডিভাইসে সিম কোম্পানির দেওয়া কিউআর কোডটি স্ক্যান করে আপনার ডিভাইসে ডিজিটাল সিম টি এক্টিভ করে নিতে পারবেন। সাধারণ সিমের মতোই এটিও ব্যবহার করতে পারবেন।

কিছু প্রশ্ন উত্তরঃ

১. ডিজিটাল সিমের নেটওয়ার্ক কি সকল জায়গায় পাওয়া যাবে?

উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ, আপনি যে কোম্পানির সিম এর সেবা নিচ্ছেন সেই কোম্পানির নেটওয়ার্ক যেখানে যেখানে আছে সেখানেই আপনি এই ডিজিটাল সিমটি ব্যবহার করতে পারবেন।

২. ডিজিটাল সিমের ডাটা এবং মিনিট প্যাকেজ কেমন হবে?

সাধারণ সিমে আপনি যেমন ডাটা মিনিট প্যাকেজ যেই দামে কিনেন ঠিক তেমনি ডিজিটাল সিমেও একই দামে আপনার প্রয়োজনীয় প্যাকেজটি কিনতে পারবেন।

এগুলো ছিল ইসিম নিয়ে বিস্তারিত। ইসিম এর সুবিধাটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে, কমেন্ট এ জানান এছাড়া আপনার  কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানান। নতুন কিছূ আপনার বন্ধুদরেকে জানাতে তাদের সাথে লেখাটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button