অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? কিভাবে শুরু করবেন? বিস্তারিত

moপ্যাসিভ ইনকামের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটা মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কটিং। অন্য কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট সিস্টেম এর সাথে যুক্ত হয়ে তাদের পণ্য প্রচার করে প্রতি মাসে ৫০০-১০০০ ডলার সহজেই ইনকাম করতে পারবেন এই মাধ্যমেই। এছাড়া একটা ব্যবসায়ের প্রচার এবং বিক্রি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যান্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর চেয়ে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। চলুন জেনে নিই, অ্যাফিলিয়েট মার্কটিং কি? কিভাবে শুরু করবেন? বিস্তারিত।

অ্যাফিলিয়েট মার্কটিং কি?

কোন কোম্পানির তৃতীয় ব্যাক্তি হয়ে দ্বিতীয় ব্যাক্তির কাছে তাদের পন্য বিক্রি করাই হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কটিং।
সহজ ভাষায়, মনে করেন আপনার বন্ধুর একটা মোবাইলের দোকান আছে। এখন ঐ বন্ধু আপনাকে বলল, তুমার যদি কোন বন্ধু মোবাইল কিনতে চায় তাহলে আমার কাছ থেকে কিনতে বল। কেউ যদি তুমার বলার মাধ্যমে মোবাইল কিনে তাহলে তুমাকে প্রতি মোবাইল এর বিনিময়ে ৫০০ টাকা বোনাস দেওয়া হবে।
একটু খেয়াল করে দেখুন। এখানে কিন্তু, মোবাইলটা আপনি ক্রয় করেননি। ক্রয় করেছে আপনার বন্ধু। আপনি শুধু থাকে বললেন আপনার প্রথম বন্ধুর দোকান থেকে নিতে। যার বিনিময়ে আপনি ৫০০ টাকা বোনাস পেয়ে গেলেন। এটা ছিল একটা প্রমোশন। এই কাজটা যখন অনলাইনে বিভিন্ন মাধ্যমে বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা হয় সেটাই হল অ্যাফিলিয়েট মার্কটিং।

কিভাবে শুরু করবেন

আমাদের কোন কিছু করতে হলে প্রথম পদক্ষেপ হল কিভাবে শুরু করবেন তা নির্ধারণ করা। কেননা আমাদের শুরুটা যদি সঠিকভাবে করা না হয় তাহলে কাজটা কখনো সম্পূর্ন করা হবে না। অথবা শুরু করার পর মাঝপথে গিয়ে আর বুঝতে পারি না এরপর কি করব। তাই আমি আপনাদেরকে স্টেপ বাই স্টেপ গাইটলাইন দেওয়ার চেস্টা করেছি। চলুন জেনে নিই কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন।

নিশ সিলেক্ট করা।

নিশ মানে হল কোন বিষয় বা ক্যাটাগরি। আপনি আপনার আশেপাশে কোন একটা মার্কেট এ গেলে দেখতে পাবেন সেখানে কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান, খাবার দোকান, মোবাইলের দোকান, এছাড়া আরো বিভিন্ন ক্যাটাগরির দোকান আছে। অনলাইনেও এই সবধরনের প্রোডাক্ট পাওয়া যায় এবং প্রত্যেকটি প্রোডাক্ট এর কম-বেশি সাইটে অ্যাফিলিয়েট সিস্টেস আছে। এখান থেকে আপনি কোন ক্যাটাগরির কোন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবেন তা নির্ধারন করাই হলো নিশ। আপনি যদি সঠিক নিশ নির্ধারন না করে কাজ শুরু করে দেন তাহলে কাজটা শুরু করার আগেই শেষ হওয়ার মত। এজন্য একটা সঠিক নিশ নির্ধারন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ

নিশ আবার তিন ধরনের। যেমন:
ব্রড নিশ।
ন্যারো নিশ।
মাল্টি নিশ।

ব্রড নিশ: ব্রড মানে হল বড়। ব্রড নিশ হল কোন নিশের মূল বিষয়টা। যেমন: টেক, হেল্থ, কিচেন, হোম সাপ্লাই ইত্যাদি এগুলো এক একটা ব্রড নিশ।
আবার টেক এর মধ্যে মোবাইল>স্যামসং>S10>ব্যাটারি। এভাবে আপনি একটা ব্রড নিশকে যত ছোট করবেন সেটা তত ন্যারো নিশ হবে। শুরুতে ন্যারো নিশ নিয়ে কাজ করাই ভালো

কয়েকটা নিশ নিয়ে যখন একসাথে কাজ করা হয় সেটা হল মাল্টি নিস। তবে শুরুতে আপনি যত ন্যারো অর্থাৎ ছোট নিশ নিয়ে কাজ করবেন ততভালো এবং কাজ করাও সহজ হবে।

কম্পিটিশন চেক।

যেকোন কাজের ক্ষেত্রে কম্পিটিশন চেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভালো নিশ একটা পেলেন আর সেটা সিলেক্ট করে কাজে নেমে পারলেন এমন হলে আপনি সাতার না জেনে জলে লাফ দেওয়ার মত হবে। আপনার সিলেক্ট করা নিশ এর কম্পিটিশন চেক করতে হবে। কম্পিটিশন যদি অনেক বেশি হয় তাহলে আপনার ঐ কাজে ভালো করা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। শুরুতে কখনো হাই কম্পিটিশন নিয়ে কাজ করা উচিৎ নয়। তাই আপনাকে কম কম্পিটিশন এর নিস গুলো থেকে সিলেক্ট করতে হবে।

মার্কেট রিসার্চ করা।

আপনার নিশ সিলেক্ট করা হয়ে গেলে আপনাকে ঐ নিশ নিয়ে মার্কেট রিসার্চ করতে হবে। ঐ নিশ এর উপর প্রোডাক্ট কেমন আছে। গ্রাহকের চাহিদা কেমন। মার্কেট ভ্যালো কেমন। প্রোডাক্ট প্রাইজ কেমন। এই সকল বিষয় আপনাকে একটা একটা করে রিসার্চ করতে হবে। এরপর আপনার সবকিছু যদি বরাবর হয় তাহলে আপনি ঐ নিশটা নিয়ে কাজ করার আরো একধাপ এগিয়ে গেলেন।

প্লাটফর্ম নির্বাচন।

আপনার মার্কেট রিসার্চ এর কাজ হয়ে গেলে আপনাকে নিশ এর উপর কোন প্লাটফর্মটা সবচেয়ে ভালো সেটা নির্বাচন করতে হবে। যেমনঃ আপনি যদি বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করেন তাহলে আপনি অ্যামাজন বা ইবে এর মত অ্যাফিলিয়েট প্লাটফর্ম গুলো নির্বাচন করতে পারেন।

আবার যদি ডোমেইন-হোস্টিং নিয়ে কাজ করেন তাহলে নেইমচিপ বা গুডেড্ডি নির্বাচন করতে পারেন। আবার যদি বিভিন্ন থিম, প্লাগিন নিয়ে কাজ করেন তাহলে থিমফরেস্ট বা ইনভাটো এর অ্যাফিলিয়েট নিয়ে কাজ করতে পারেন। এভাবেই আপনাকে নিশ অনুযায়ী সঠিক প্লাটফর্ম নির্বাচন করতে হবে।

কিওয়ার্ড রিসার্চ করা।

আপনার নিশ এর প্রোডাক্ট গুলো কি কি কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করলে খুজে পাবে তা আপনাকে রিসার্চ করে বের করতে হবে। যেহেতু সবাই গুগল এ সার্চ করে আপনার ওয়েবসাইটে আসে এজন্য আপনাকে এমন কিছু কিওয়ার্ড খুজে বের করতে হবে যেগুলো নিয়ে কাজ করে আপনার ওয়েবসাইটটি সহজেই গুগলে রেঙ্কিং করাতে পারবেন।

মনে রাখবেন, একটা ওয়েবসাইটকে রেঙ্ক করানোর লো কম্পিটিটিড কিওয়ার্ড গুলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এ ধরনের কিওয়ার্ড গুলোই আপনাকে খুজে বের কনতে হবে।

ডোমেইন হোস্টিং নেওয়া।

আপনার অন্যান্য কাজ গুলো হয়ে গেলে এখন ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ডোমেইন-হোস্টিং নিতে হবে। ডোমেইন নেওয়ার সময় নিশ রিলেটেড মেচ করে এমন ডোমেইন থাকলে তা নিবেন। যদি না পান তাহলে ব্র্যান্ডেবল ডোমেইন নেওয়ার চেস্টা করুন।
হোস্টিং নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো কোম্পানি থেকে হোস্টিং নিবেন। অনেক কোম্পানির হোস্টিং অনেক সময় ডাউন হয়ে যায়। আপনার সাইট যদি ডাউন থাকে তাহলে আপনার রেঙ্কিং এবং ভিজিটর কমে যাবে। এজন্য ভালো কোম্পানি থেকে হোস্টিং নিবেন।

ওয়েবসাইট তৈরি

ডোমেইন হোস্টিং নেওয়া হয়ে গেলে সবকিছু সঠিকভাবে করে আপনার ওয়েবসাইটটি তৈরি করে নিন। ওয়েবসাইটটিকে সুন্দরভাবে অপ্টিমাইজড করে নিন। ইউজার ফ্রেন্ডলিভাবে সাইটটি অপ্টিমাইজড করে নিন এবং কম্পিটিটর থেকে আলাদাভাবে সাজানোর চেস্টা করুন।

কনটেন্ট পাবলিশ

সাইট তৈরি করা সম্পূর্ন হয়ে গেলে আপনার নিশ এর উপর রিসার্চ করা কিওয়ার্ড গুলো নিয়ে আর্টিকেল বা কনটেন্ট পাবলিশ করুন। আর্টিকেল যদি আপনি নিজে লিখতে পারেন তাহলে নিজেই লিখুন না হলে অন্য কোন এক্সপার্ট রাইটার কে দিয়ে লিখান। লিখার সময় অবশ্যই গ্রামার সঠিকভাবে ব্যবহার করে। কিওয়ার্ড গুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। কম্পিটিটরদের থেকে বেশি ওয়ার্ড এর লিখুন। কপি কনটেন্ট লিখা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, কনটেন্ট হল কিং। আপনার সাইটে যতভালো কনটেন্ট থাকবে ততবেশি সাইটটি গ্রো করবে। যতবেশি সম্ভব কোয়ালিটি কনটেন্ট দেওয়ার চেস্টা করুন।

এসইও করা

আপনার সাইটটে কনটেন্ট পাবলিশ করলেন। কনটেন্ট গুলো ইউজার এর কাছে পৌছানোর জন্য আপনাকে এসইও করতে হবে। যেহেতু অ্যাফিলিয়েট সাইট, গ্রাহকরা যখন নিশ রিলেটেড প্রোডাক্ট গুলো নিয়ে সার্চ ইজ্ঞিন এ সার্চ করবে তখন আপনার সাইটটি খুজে পাওয়া যায় মত এসইও করতে হবে।

আপনার সাইটটি যদি খুজে না পায় তাহলে আপনি ভিজিটরও পাবেন না। আর ভিজিটর না আসলে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক গুলোতে কেউ ক্লিক করবে না। তাই আপনার সাইটটি সঠিকভাবে এসইও করে সার্চ ইজ্ঞিন গুলোতে রেংক করাতে হবে। এতে আপনি অর্গানিক ভিজিটর গুলো পেতে থাকবেন।

লিংক কানেক্ট করা

আপনার সাইটে এসইও করালেন ভিজিটরও আসতে লাগলো এখন আর্নিং এর জন্য প্রোডাক্ট লিস্ট এর সাথে অ্যাফিলিয়েট লিংক গুলো কানেক্ট করে দিন। এরপর ভিজিটর যখন ঐ লিংক এ ক্লিক করে কোন প্রোডাক্ট ক্রয় করবে তখন ঐ প্রোডাক্ট এর কমিশন অনুসারে নির্দিষ্ট এমাউন্ট আপনার একাউন্ট এ যুক্ত হয়ে যাবে। পরে যেকোন সময় আপনি ঐ টাকা গুলো সেখান থেকে উইথদ্র করে নিতে পারবেন।

কতটাকা আয় করতে পারবেন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি লাখ টাকা আয় করতে পারবেন আবার হাজার টাকাও আয় করতে পারবেন। তা সম্পূর্ন নির্ভর করবে আপনার কাজের উপর। আপনি যতবেশি কাজ করবেন ততবেশি আয় করতে পারবেন। তবে আপনাকে জেনে শুনে কাজ করতে হবে। যেমন তেমন কাজ করলে হবে না। স্মার্ট ওয়ার্ক করতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। আপনি যদি চিন্তা করেন একদিন বা একসপ্তাহ কাজ করে হাজার হাজার ডলার আয় করবেন তাহলে আপনি কখনো আয় করতে পারবেন না। আপনাকে কমপক্ষে ২-৩ মাস সময় দিতে হবে তারপর আপনি আয় করতে পারবেন।

ব্যবসায়ের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইকমার্স সাইট হল অ্যামাজন। অ্যামাজন এ প্রতিদিন ২ কোটির বেশি পণ্য বিক্রি হয়। একটু অবাক হলেন তাইনা। এটাি সত্যি। এছাড়া বর্তমান বিশ্বর সবচেয়ে বড় ধনীব্যক্তি হলেন অ্যামাজন এর মালিক জেফ বেজোস। আপনি একবার চিন্তা করে দেখুন তাদের এতগুলো পণ্য কিভাবে বিক্রি হয়। এর কারন হল একটাই। তা হল তাদের অ্যাফিলিয়েট সিস্টেম।

বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা কমিশন পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে তাদের পণ্য গুলো প্রচার করতেছে। যার ফলে গ্রাহকরা সেই ওয়েবসাইট গুলো থেকে সরাসরি অ্যামাজন এ গিয়ে তাদের প্রোডাক্ট গুলো অর্ডার করতেছে। এজন্য তাদের প্রতিদিন এতবেশি বিক্রি হয়। ব্যবসায়ের বিক্রি বৃদ্ধি এবং প্রসারের ক্ষেত্রে অ্যাফিলিয়েট সিস্টেম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে কার্যকর একটা মেথড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap