৭ টি অভ্যাস যা আপনার জীবনকে সফল করবে

আমরা সকলেই জানি যে মানুষ অভ্যাসের দাস। তাই আপনি যদি আপনার অভ্যাস কে পরিবর্তন করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার জীবনকেও পরিবর্তন করতে পারবেন।

আমরা প্রতিদিনি এমন কিছু অভ্যাস করে ফেলি যেটা আমাদের পক্ষে ছাড়া বা ঔটা থেকে  দূরে থাকা আমাদের জন্য সম্পূর্ণ না হয়ে যায়। কারণ ওই সময়ে আমাদের অভ্যাস গুলোই আমাদের ব্রেন কে কন্ট্রোল করতেছে। আমরা আমাদের নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারতেছি না আর একটা কথা, আমার তখন ভুলে যাই যে মানুষ অভ্যাসের দাস। আজকের এই লেখাতে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি এমন ৭টি অভ্যাস যেটা পৃথিবীর বেস্ট সেলার বই Stephen Covey এর লেখা the seven habits of highly effective people এই বই থেকে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যে বইটা পড়ে অনেকেই তাদের জীবনকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে দেয় তো আর দেরি কিসের।  অভ্যাস গুলো জেনে নেই।

Havit No 1 : be proactive

এই পৃথিবীতে দুই ধরনের লোক রয়েছে নাম্বার 1 Proactive নাম্বার 2 Reactive. Reactive লোক হলো তারা যারা মনে করে তাদের জীবনের সম্পূর্ণ কিছু আগে থেকে নির্ধারিত, তাদের জীবনের যা হচ্ছে এতে তাদের কোন হাত নেই। এখানে সে তার জীবনের সকল কার্যকলাপের জন্য বাইরের সমাজকে অথবা দেশকে অথবা সরকারকে অথবা সৃষ্টির্তাকে দোষ দিয়ে থাকে। যেখানে সে মনে করে তার নিজের কোন দোষ নাই।

অন্যদিকে Proactive লোকেরা মনে করে তাদের জীবনে যা কিছু হচ্ছে সবকিছুর জন্য দায়ী সে নিজেই। এখানে একটি প্রধান কথা হচ্ছে মানুষ এবং জীবজন্তুর মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে মানুষ চাইলেই তার ইচ্ছাকে পরিবর্তন করতে পারে কিন্তু সেটা অন্যান্য প্রাণীরা পারে না।

আপনি যদি একটা ক্ষুধার্ত কুকুরের সামনে একটা মাংস রাখেন তাহলে সে কিন্তু সে মাংসটা খাবে কারণ তার ক্ষমতা নাই যে এই খাবারটা রেখে অন্য কিছু চিন্তা করার। অন্যদিকে সেম বিষয়টা যদি একজন মানুষের ক্ষেত্রে হয় সে কিন্তু ক্ষুধার্ত থাকা সত্ত্বেও কিন্তু খাবারটা না খেয়ে থাকতে পারবে কারণ তার সে না খেয়ে থাকার অভ্যাসটা গড়ে তুলতে পারবে।

Proactive লোকেরা সব সময় তাদের মাথায় নেগেটিভ চিন্তা গুলো করে থাকে। তারাই মনে করে যে, অফিসের বস যদি সারাদিন কিটকিট না করে তাহলে কিন্তু শান্তিতে চাকরিটা করতে পারতাম। কিন্তু এখানে সে বসের কিটকিট না শোনার জন্য কি করতে পারে এটা নিয়ে চিন্তা করে না।

আর Reactive লোকেরা তারা সকল কাজের জন্য নিজেকেই দাবি করে, যে কোন পরিস্থিতির জন্য তারা নিজেকে সামাল দিতে ব্যস্ত থাকে। তারা বস কেন কিটকিট করছে ওইটা না দেখে তারা কিটকিটকে কিভাবে বন্ধ করা যায় এই জিনিসটাকে প্রাধান্য দেয়। এক্ষেত্রে তারা নিজেকে অনেকটুকু Improve করে ফেলতে পারে এবং সমস্যা থেকে সমাধানও করে ফেলতে পারে।

সুতরাং অন্যরা কি ভাবছে কি করছে ওটা নিয়ে চিন্তা না করে আপনি কিভাবে কি করছেন ওইটা নিয়ে দিকে নজর দেন তাহলে অবশ্যই আপনি নিজেকে পরিবর্তন করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ সোশিয়াল মিডিয়া যেভাবে আমাদের জীবনকে রোবটের মত করে ফেলতেছে

Habit No 2 : begin with that end in mind

একটা বাড়িকে যদি সঠিক এবং সুন্দরভাবে তৈরি করতে হয় তাহলে তার অবশ্যই একটা পরিকল্পনা করে রাখতে হবে। ঠিক তেমনি আপনি আপনার জীবনকে সফল করতে চাইলে তার জন্য একটা পরিকল্পনা করে রাখতে হবে যেটাকে বইয়ে Mission Statement বলা হয়েছে।

এখানে এটা বুঝানো হচ্ছে যে আপনি যদি একজন ডাক্তার হতে চান তাহলে আপনার ডাক্তার হওয়ার জন্য যা যা করার প্রয়োজন তা কি আপনি পরিকল্পনা করে রেখেছেন বা সেভাবে কাজ করতেছেন। নাকি আপনি শুধু মন থেকেই চাচ্ছেন যে ডাক্তার হবেন আর অন্যদিকে যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছেন। এমন হলে কোন কিছুই আপনি সম্পূর্ণভাবে করতে পারবেন না। তাই যেকোন কিছু শুরু করার আগে শেষ করার চিন্তাধারা নিয়ে মাঠে নামুন। 

Habit No 3 : put first thing first

এখানে আমাদের জীবনের সকল কাজকে লেখক চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

4-types-of-work-in-our-life-todaytrick

যেখানে প্রথমটা হল Urgent, and Important.

এখানে সেই কাজগুলোকে বলা হয়েছে যেগুলো আমাদের জন্য করা গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়েবেশি প্রয়োজনীয়। যেগুলো যদি আমরা সঠিক সময় না করি তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই খারাপ কিছু হবে। যেমনঃ কালকে আমার পরীক্ষা আজকে আমি যদি ভালো করে না পড়ি তাহলে আমার পরীক্ষা খারাপ হতে পারে অথবা কালকে প্রজেক্ট জমা দেওয়ার শেষ দিন কালকের মধ্যে প্রজেক্ট জমা দিতে না পারলে কালকে বস রাগ করবে।

এখানে দ্বিতীয় টা হল Not urgent, but Important.

এখানে সেই কাজগুলোকে বলা হয়েছে যেগুলো আমাদের এখনই করতে হবে এমন না তবে এগুলো আমাদের জীবনের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। যেমনঃ সঠিক সময় মত সঠিক খাবার খাওয়া, শারীরিক ব্যায়াম করা, সময়মতো ঘুমানো, পরিবারের সাথে সময় কাটানো ইত্যাদি।

এখানে তিন নাম্বারটা হলো Urgent, Not important.

এই পর্যায়ের কাজগুলোকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও আসলে এই কাজগুলো আমাদের বাস্তব জীবনে কোন ভ্যালু যুক্ত করে না।

যেমনঃ আপনার প্রিয় দল আর্জেন্টিনার খেলা আজকে রাত্রে চলবে আর আপনি আজকে রাত্রে খেলাটা দেখলেন না। আর আপনার বন্ধুরা বলতে লাগলো তুই কিরকম আর্জেন্টিনার ফেন হলি, কালকে খেলাটাই দেখলি না। এজন্য আপনি রাতে না ঘুমিয়ে অবশ্যই খেলাটা দেখবেন। অথচ এখানে খেলা দেখাটা আমাদের জন্য ঘুমের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ না।

এখানে সর্বশেষ চার নাম্বারটা হলো Not Important, Not Urgent.

আমরা এমন অনেক কাজ সারাদিন কথা থেকে যেগুলো আমাদের জন্য না কোন প্রয়োজনের না কোন দরকারের। যেমনঃ সারাদিন ফেসবুকে স্ক্রলিং করা, মেসেঞ্জারে চ্যাটিং করা, ইউটিউবে ভিডিও দেখা ইত্যাদি। আসলে এই জিনিসগুলো আমাদের জন্য কোন উপকারের না। লেখক সম্ভব হলে এটাকে সম্পূর্ণ Avoid করতে বলেছেন।

লেখক আরো বলেছেন ৩ নাম্বার আর নাম্বারে গুরুত্ব না দিয়ে দুই নম্বর এবং ১ নাম্বারটাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে। এভাবে যদি আপনি আপনার জীবনের প্রতিটি কাজকে সঠিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে করতে পারেন। তাহলে আপনি অবশ্যই নিজেকে পরিার্তন করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ ওয়েব ৩.০ কি? ওয়েব ৩.০ যেভাবে বিশ্বকে পরিবর্তন করবে। বিস্তারিত

Habit No 4 : Think win-win

যে কোন খেলায় দুটি দলের মধ্যে একটি দল হারবে একটি দল জিতবে এটাই স্বাভাবিক। জীবনের ক্ষেত্রে এমন অনেক বিষয় আছে যেখানে win-win situation গড়ে ওঠে। এক্ষেত্রে দুটি পক্ষই জিতে থাকে।

যেমনঃ আপনার ছেলে চাই চকলেট খেতে আর আপনি চান তাকে বই পড়াতে। এক্ষেত্রে আপনি তাকে বলতে পারেন এক ঘন্টা বই পড়লে তাকে আপনি তার ফেভারিট চকলেট টি দিবেন। এক্ষেত্রে সে রাজি হল এবং ১ ঘন্টা বইও পড়ল। আপনিও থাকে চকলেট কিনে দিলেন। এখানে আপনিও খুশি হলেন ছেলেও খুশি হল। আর এটাকে বলা হয় win-win situation.

সবক্ষেত্রে এমন situation তৈরি হবে এমন কোন সম্ভাবনা নেই, যদি সম্ভব হয় তাহলে অবশ্যই এটা করে নিবেন।

Habit No 5 :  seek first to understand, then to be understood.

সাধারণত আমরা যখন একজন আরেকজনের সাথে কথা বলি তখন কিন্তু আমরা সে কি বলছে সেটা বেশি মনোযোগ না দিয়ে এটা মনোযোগ দেয় যে তার কথা কখন শেষ হবে আমি কথা বলা শুরু করব। এজন্য একজন আরেকজনের প্রতি ঝগড়া লেগেই থাকে। এটা অনেকটা এমন যে একজন কাস্টমার দোকানে আসলো আর দোকানদার তার দোকানের সব ভালো ভালো প্রোডাক্ট গুলো কাস্টমারকে দেখাতে লাগল। এক্ষেত্রে কাস্টমার গরম হয়ে যাচ্ছে তার যেটা প্রয়োজন সেটা দোকানদার দিচ্ছে না। আর দোকানদার গরম হয়ে যাচ্ছে তাকে সব ভালো ভালো প্রোডাক্ট দেখানোর পরও তার একটাও পছন্দ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমাধান হচ্ছে কোন একজনকে চুপ করা এবং অপরজনের কথা মন দিয়ে শোনা।

আপনাকে প্রথমে আগে অন্যজনকে বুঝতে হবে তারপর আপনার বুঝগুলো তাকে দিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ মোবাইল ফোন এর আসক্তি থেকে বেচেঁ থাকার উপায়

Habit No 6 : Synergise

এটা অনেক ক্ষেত্রে এমন যে আপনি একজন দোকানদার। আপনি চাচ্ছেন যে দোকানের মালও আপনি আনবেন কাস্টমার কেউ আপনি বিক্রি করবেন আবার বাইরে সাপ্লাইও আপনি করবেন। সব কাজ আপনি একাই করবেন। এক্ষেত্রে যেটা হবে হয় আপনার কাস্টমার সন্তুস্ট হবে না, না হয় আপনার সঠিক প্রোডাক্ট কিনা হবে না, না হলে আপনার অন্য কিছু হবে না। এটার সবচেয়ে বড় সমাধান হচ্ছে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজকে ভাগ করে দেওয়া। আপনি আপনার দোকানে যদি কিছু লোক রাখেন যে একজন কাস্টমার সাপ্লাই করবে অন্যজন প্রোডাক্ট আনবে আর আপনি নিশ্চিন্তে বিক্রি করবেন। তাহলে আপনি আপনার প্রোডাক্ট পাবেন কাস্টমারও সন্তুষ্ট করতে পারবেন। বিক্রিও বেশি করতে পারবেন। তাই সবকিছু একা না করে কয়েকজন মিলে একসাথে করার চেস্টা করতে হবে।

Habit No 7 : Sharpen the Saw

এটা এমন যে, মনে করেন দুজন লোককে ৫০০০০ করে টাকা নেওয়া হলো শাড়ি কিনে বিক্রি করার জন্য। প্রথমজন কোন কিছু চিন্তা না করেই পরের দিন ৫০হাজার টাকার শাড়ি কিনা আনল। দ্বিতীয়জন তা না করে সে অলরেডি যে দোকানগুলোতে সাড়ে বিক্রি করতেছে সেগুলোতে গেল এবং কাস্টমাররা কোন কোন শাড়ি গুলো পছন্দ করতেছে দোকানদার কাস্টমারকে কিভাবে শাড়ি গুলো বিক্রি করতেছে জিনিসটা উপলব্ধি করল। এরপর সে সেই ৫০ হাজার টাকার কাস্টমাররা পছন্দ করতেছে এমন শাড়ি কিনে আনল।

আপনারা তো বুঝতে পারতেছেন যে কার শাড়ি গুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হবে। নিশ্চয়ই দ্বিতীয় ব্যক্তিটি।

কারণ সে সবকিছু জেনেশুনে তার কাজটি করেছে। এমন কিভাবে তা বিক্রি করবে তাও জেনে নিয়েছে। সফল ব্যাক্তিরা ঠিক এই কাজটাই করেন, তারা সকল কিছু সঠিকভাবে জেনে শুনে তারপর মাঠে নামেন এবং সবশেষে সফলতা নিয়ে বাড়ি ফিরেন।

আরো পড়ুনঃ খরগোশ এবং কচছপের আরো ৩ টি শিক্ষামূলক গল্প

এগুলো সাতটি অভ্যাস যা আপনার জীবনে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলেই আপনি আপনার জীবনকে পরিবর্তন করতে পারবেন।

সাতটি অভ্যাসের মধ্যে কোনটা আপনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপকারী মনে হয়েছে তা কমেন্ট করে জানান। অভ্যাস গুলো ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button