Online TrickSuccess

২০২২ এ যে ১০ টি স্কিল শেখা উচিৎ

সময় এগিয়ে ২০২২ সাল এখন। যুগ এগিয়ে যাচ্ছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চাইলে নিজেকেও এগিয়ে নিতে হবে। আর এগিয়ে নিতে হলে যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কত দক্ষতাই তো অর্জন করেছি আর করছি। কিন্তু কোনগুলো বেশি সময়োপযোগী সেগুলো ঠিক করে ঐ দক্ষতা অর্জন করার পথে আগানো উচিত।কারন সময়োপযোগী হলেও অনেক দক্ষতা আবার কিছুদিন পর দরকার হয় না বা মুল্য থাকে না। তাই জেনে বুঝে নিজের দক্ষতা বা স্কিল অর্জন করতে হবে।

২০২২ এ যে ১০ টি স্কিল শেখা উচিৎ তা নিয়ে আলোচনা করছি। এ আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারব কোন স্কিল শেখা ঠিক হবে বা কোনটা শিখলে আমার ভালো হবে। সব স্কিল শেখাই কি জরুরি নাকি একটা দুটা শিখলেই ক্যারিয়ার শুরু করা যায় তা নিয়েও রয়েছে বিস্তারিত। 

আসলে অনেক গুলো স্কিল এর মধ্যে কোনটা সবচেয়ে বেশি জরুরী নির্দিষ্ট করে বলা খুব মুশকিল তবুও ইন্টারনেট ঘেটে সেই আলোকে দশটি স্কিল আজ উপস্থাপন করছি। প্রথমেই প্রযুক্তি নিয়ে বলব। কারন প্রযুক্তি ছাড়া একটি দিনও আমরা ভাবতে পারিনা। ২০২২ এ যে ১০ টি স্কিল শেখা সবচেয়ে  জরুরি তা হলঃ

 

১. বেসিক প্রোগ্রামিং

বেসিক প্রোগ্রামিং বর্তমানে একটি চাহিদাসম্পন্ন স্কিল। যদিও প্রোগ্রামিং এর গুরুত্ব আমরা আগেও জেনেছি এবং বিপুল সংখ্যক জনশক্তি প্রোগ্রামিং নিয়ে পড়াশোনা করছে। তবে বেসিক প্রোগ্রামিং এর চাহিদা শেষ হওয়ার নয়। প্রোগ্রামিং জ্ঞান এর মাধ্যম আপনি পূর্বে শেখা কোডিং দিয়ে আপনি নতুন প্রযুক্তি শিখতে পারেন।  এছাড়াও প্রোগ্রামিং  দিয়ে আপনি নতুন সফ্টওয়্যার বানানো বা সফ্টওয়্যারের উন্নয়নে সহায়তা করতে পারেন, যা অনেক চাকরির জন্য আবশ্যক।

যেমনঃ

১.  (C) Windows, UNIX, এবং Linux অপারেটিং সিস্টেমের জন্য ডেস্কটপ সফ্টওয়্যার উন্নয়নে জনপ্রিয়।

২. নন-টেকনিকাল ব্যবসা এবং বিপণনকারীদের টেবিল, ডাটাবেস এবং এমনকি এক্সেলের ম্যাক্রোতে ডেটা নিয়ে কাজ করতে পাইথনের ব্যবহার বাড়ছে।

৩. ওয়েব এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বিকাশের জন্য জাভা একটি সর্বজনীন ভাষা।  বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ জাভাতে লেখা হয়।

৪. C++ ফটো, ভিডিও এডিটিং এবং গেমের মতো প্রোগ্রামগুলির জন্য বর্তমানে একটি জনপ্রিয় প্রযুক্তি।

৫. C#  ডেস্কটপ সফ্টওয়্যার ও গেম বিকাশের জন্য এখন চাহিদাসম্পন্ন স্কিল।

 

২. গ্রাফিকস ডিজাইন 

গ্রাফিকস ডিজাইন যারা জানেন তারা তো হিরো। তবে নতুন যারা শিখতে চান তাদের জন্য এই প্রফেশন খুব ভালো হবে। কারন গ্রাফিকস এর কাজে নতুন নতুন সেক্টর আবিষ্কার হচ্ছে। এর মধ্যে 2 ডি, 3 ডি এনিমেশন, কার্টুন এনিমেশন, মোশন গ্রাফিকস অন্যতম।

বর্তমানে ইউটিউবে বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন কার্টুন ভিডিও আমরা দেখতে পাই যা খুবই জনপ্রিয়। বিজ্ঞাপন ও শিশুদের জন্য গল্প বানাতে এসব 2ডি,3ডি, মোশন গ্রাফিকস এর চাহিদা এখন শীর্ষে। আর এ স্কিল শেখা খুব সহজ। কারন কেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই এ স্কিল অর্জন করে পেশা হিসেবে নেয়া যায়। আর সম্মানিও অনেক। আবার চাকরি না করে ফ্রীল্যান্সিং করেও এ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার সুযোগ রয়েছে। গ্রাফিকস এর জগত বিশাল। এ জগতের যেকোন দক্ষতাই আপনাকে পেশাগত দিক দিয়ে এগিয়ে রাখবে।

 

৩. ভিডিও এডিটিং 

বর্তমানে ভিডিওর ব্যবহার সর্বত্র। আর এজন্য দরকার ভিডিওকে আকর্ষণীয় করে তৈরি করা, এডিট করা।বিভিন্ন টুলস ও অ্যাপের সাহায্যে এ কাজটি করাও কঠিন নয়। অল্প টাকায় বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স করে ভিডিও এডিটিং এক্সপার্ট হতে পারেন। টিভি চ্যানেল, এড এজেন্সি, বিদেশি বায়ারের অর্ডারসহ চাকরির বাজারে এ কাজের মুল্য অনেক ডিমান্ডেবল।

 

৪. লো-কোড প্ল্যাটফর্ম

ধারনা করা হয় ২০২৪ সালের মধ্যে, সমস্ত সফ্টওয়্যার উন্নয়ন কার্যকলাপের ৬৫% লো- কোড দিয়ে তৈরি হবে।

লো-কোড অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম (এলসিএপি) যেমন মেন্ডিক্স, কুইক্সি, এবং মাইক্রোসফ্ট পাওয়ারঅ্যাপগুলি জটিল আধুনিক সফ্টওয়্যার বিকাশের সরঞ্জামগুলির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেএ প্ল্যাটফর্মে কোন অ্যাপ্লিকেশন বিকাশের জন্য সামান্য প্রোগ্রামিং জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত মানসিকতা থাকলেই হয়। কঠিন প্রোগ্রামিং ভাষা না শিখলেও চলবে।

 

. ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং

 মূলত, ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং হল সফ্টওয়্যার প্রকৌশলী, বিগ ডেটা বিশ্লেষক এবং ক্লাউড কম্পিউটিং ইঞ্জিনিয়ারদের মতো বেশ কয়েকটি আইটি পেশার মিশ্রন। ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মৌলিক ক্রিয়াকলাপগুলির মধ্যে রয়েছে তথ্য সংগ্রহ ও সংগঠিত করা। বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য একত্রিত করা এবং তাদের বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে ডেটা স্টোরেজ অপ্টিমাইজ করা। এছাড়া একজন দক্ষ ডেটা ইন্জিনিয়ার কোম্পানির বাজেট অপ্টিমাইজ করতে ডেটা স্টোরেজের খরচ কমাতে পারে।

একজন ডেটা বিশ্লেষক পাইথন এবং SQL, জাভা বা স্কালা, ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম যেমন Amazon Web Services (AWS), এবং বিগ ডেটা প্রসেসিং প্রযুক্তি যেমন Hadoop, Spark, এবং Kafka ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন। অ্যালগরিদম এবং ডেটা স্ট্রাকচার এবং ডিস্ট্রিবিউটেড সিস্টেমের বুনিয়াদি জ্ঞানও তার জন্য জানা আবশ্যক। তাই এ স্কিলটি যারা শিখবেন ভাবছেন ও আগ্রহ আছে তারা শুরু করে দিন এখনি। কারন এটা ২০২২ এ যে ১০ টি স্কিল শেখা উচিৎ তার মধ্যে অন্যতম এটি।

 

৬. UI/UX ডিজাইন

গ্রাফিকস ডিজাইনের একটি অংশ হল UI/UX।

UX (ইউএক্স) মানে হল ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এবং UI (ইউআই) হল ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন। এ দুটি ডিজাইন স্কিল শেখার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একটি ওয়েবসাইটে বেশি ভিজিটর পেতে সক্ষম হয়। কোন ওয়েব সাইট বা এপ এ কার জন্য কোথায় কি কি থাকবে এবং কোন অপশনের ইন্টারফেস কেমন হবে ইত্যাদি ডিজাইন করা হল UI আর UX হল কোনো পণ্যের টার্গেট কাস্টমার করা, তারা কেন আপনার পণ্য কিনবে আর পণ্য কেনার পর সেই পণ্যের সাথে তাদের অভিজ্ঞতা কেমন ইত্যাদি। সারা বিশ্বে বর্তমানে UI/UX-এর সাথে সম্পর্কিত 6,000-এর বেশি চাকরির তালিকা রয়েছে  Glassdoor এবং LinkedIn এ। এর থেকে বোঝা যায় যে 2022 সালে পণ্য ডিজাইনারদের জন্য চাকরির কোন অভাব নেই

 

৭. ব্লকচেইন ডেভেলপমেন্ট 

বর্তমানে ব্লকচেইন প্রযুক্তি একটি  বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হয়েছে।  Statista-এর মতে, 2024 সালের মধ্যে ব্লকচেইন ডেভেলপমেন্টের উপর বিশ্বব্যাপী ব্যয় $19 বিলিয়নে পৌঁছাবে। এটির বিকাশ বাড়বে মুলত ক্রিপ্টোকারেন্সি তৈরি এবং পরিচালনার জন্য। যেহেতু বিশ্বে বর্তমানে ব্লকচেইন প্রযুক্তি প্রয়োগ করার উপায় বের করে চলছে কিন্তু এরপরেও  ব্লকচেইন দক্ষতা সম্পন্ন লোকদের জন্য প্রচুর চাকরি থাকবে। তাই আপনি যদি এখন কোন স্কিল শিখতে চান তাহলে ব্লকচেইন ডেভেলপমেন্ট হতে পারে আপনার জন্য সেরা সুযোগ।

 

৮. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং

বর্তমান ডিজিটাল উন্নত  প্রযুক্তির যুগে,কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারন বর্তমানে যেকোন মেশিনারি কাজে এবং সফ্টওয়্যার পরিচালনায় (AI) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও (ML) মেশিন লার্নিং  উভয়ের সাহায্যে, স্ব-চালিত গাড়ি, মুখমন্ডল শনাক্তকরণ সফ্টওয়্যার ,অস্ত্রোপচারের রোবটের মতো প্রযুক্তি, কোন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের এন্ট্রি ইত্যাদি সব কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

Semrush ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে বিশ্বব্যাপী (AI) বাজার আগামী কয়েক বছরে $190.61 বিলিয়নে পৌঁছাবে। যেহেতু AI এবং মেশিন লার্নিং এখনও নতুন ক্ষেত্র তাই এটা নিয়ে স্কিল গড়লে আপনার ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হবে আশা করা যায়।

 

৯. ইন্টারনেট অফ থিংস

ইন্টারনেটে অফ থিংস (IoT) হল একটি সংযোগ সেতু যা ডিভাইসগুলিকে একটির সাথে আরেকটিকে লিঙ্ক করে এবং তাদের ইন্টারনেট সংযোগ জুড়ে যোগাযোগ, ডেটা ভাগ ও আরও অনেক কিছু করে থাকে। আগে ইন্টারনেট প্রধানত কম্পিউটারে ব্যবহৃত হত, কিন্তু আজ ইন্টারনেটকে আপনি ঘড়ি, ফ্রিজ, গাড়ি ইত্যাদির মতো ডিভাইসগুলির সাথে সংযোগ করতে পারছেন। এটি মানুষ এবং ডিভাইস নিয়ে গড়ে ওঠা বিরাট নেটওয়ার্ক যার অন্তর্ভুক্ত ডিভাইসগুলো নিজেদের ভিতর ডেটা সংগ্রহ, শেয়ার ও কাজে লাগায়। এ স্কিলটাও ২০২২ এ যে ১০ টি স্কিল শেখা সবচেয়ে  জরুরি তার মধ্যে এটা জানা সবচেয়ে জরুরী।

 

১০. কন্টেন্ট মার্কেটিং 

যতদিন নতুন ব্র্যান্ড আসবে এবং থাকবে ততদিন এর প্রচারের জন্য কন্টেন্ট মার্কেটিং থাকবে। আর পৃথিবীর শেষ সময় পর্যন্ত নতুন ব্র্যান্ড আসা চলতে থাকলে কনটেন্ট মার্কেটিংও থাকবে আশা করা যায়। কোম্পানি বা সেবা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রচার চালাতে নিত্যনতুন কন্টেন্ট চায়। আর কন্টেন্ট লিখে,মার্কেটিং করে আপনি আপনার আয়ের পথ সুগম করতে পারবেন। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, কন্টেন্ট মার্কেটিং এর বাজার ২০২২ সাল  থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে $৪১৭.৮৫ বিলিয়ন বৃদ্ধি পেতে পারে।

আর ইন্টারনেট যতদিন আছে ততদিন IOT আছে এবং পরিধিও বাড়বে আশা করা যায়। তাই এ স্কিলটি শিখে নিজের জন্যএকটি সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারেন।

তবে যাই করুন আপনাকে এসব স্কিল শেখার পাশাপাশি কয়েকটা জিনিস শেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ 

১. সফট স্কিল

২. হার্ড স্কিল

৩. কমিউনিকেশন স্কিল 

৪. এথিক্স 

 

২০২২ এ যে ১০ টি স্কিল শেখা সবচেয়ে  জরুরি  সেগুলো ছাড়াও  আরও অনেক স্কিল আছে যেটা শিখে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। সেগুলো নিয়ে অন্য কোন আর্টিকেলেএ আলোচনা করব। তবে এই আর্টিকেল এ আলোচনা করা স্কিলগুলো মোস্ট ডিমান্ডেবল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button