সোশিয়াল মিডিয়া মার্কেটিং কি? কেন এবং কিভাবে করবেন? বিস্তারিত জেনে নিন।

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হল সোশিয়াল মিডিয়া। যতই দিন যাচ্ছে এই সোশিয়াল মিডিয়া এর ব্যবহার প্রতিদিনবেড়েই চলেছে। সোশিয়াল মিডিয়া কে বর্তমানে শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নয়, পাশাপাশি পণ্য বেচা-কেনা থেকে শুরু করে ব্যবসার প্রচার করা, সার্ভিস প্রধান করা সহ সকল কাজ করা হয় সোশিয়াল মিডিয়া এর মাধ্যমে। চলুন জেনে নিই, সোশিয়াল মিডিয়া মার্কেটিং সম্পর্কে।

সোশিয়াল মিডিয়া কি?

সোশিয়াল মিডিয়া হল এমন কতগুলো ওয়েবভিত্তিক প্লাটফর্ম, যেখানে একে অপরের সাথে তথ্য আদান-প্রধান করা যায়। একে-অন্যের সাথে সংযুক্ত হওয়া যায়। নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করা যায়। যেমনঃ (ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, টুইটার, পিন্টারেস্ট, লিংকডইন, ইউটিউব ইত্যাদি) এগুলো সব বর্তমান সসয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশিয়াল মিডিয়া।

সোশিয়াল মিডিয়া মার্কেটিং কি?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো (যেমনঃ ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, টুইটার, পিন্টারেস্ট, লিংকডইন, রেডিট, ইউটিউব ইত্যাদি)ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের পণ্য বা সেবা সমূহকে প্রচার করাই হলো সোশিয়াল মিডিয়া মার্কেটিং। ইংরেজিতে Social Media Merketing কে সংক্ষেপে SMM বলা হয়।

সোশিয়াল মিডিয়া মার্কেটিং কেন করবেন?

একটা সময় ছিল যখন মানুষ একজনের থেকে অন্যজন শুনে, খবরের কাগজ পড়ে, সাদা-কালো টিভি দেখে বিভিন্ন ধরনের তথ্য বা খবরা–খবর জানত। তখন কেউ মারা গেলে বা কোন ঘটনা ঘটলে তা অনেকদিন পর জানা যেত। অনেকসময় জানাও যেত না। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল যুগ হয়ে উটায় ঐসব এখন আর ভাবাও যায় না। এখন আপনি ইন্টারনেট অন করে ফেসবুক ওপেন করলেই সেকেন্ড এর মধ্যে সব ধরনের তথ্য পেয়ে যায়।ঠিক তেমনি আপনি আপনার পণ্য বা সেবা সমূহকে খুব সহজেই আপনার সঠিক কাস্টমার এর কাছে পৌছিয়ে দিতে পারবেন এই সামাজিক মাধ্যম গুলোতে মার্কেটিং এর মাধ্যমে। আপনার পণ্য সম্পর্কে যত বেশি জানবে তত বেশি আপনার পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়ে পড়বে। এই জন্য সোশিয়াল মিডিয়া মার্কেটিং করা প্রয়োজন।

সোশিয়াল মিডিয়া মার্কেটিং এর পাঁচটি সুবিধা।

Easy Platform – সহজ মাধ্যম

Highly Growth – অনেক বেশি বৃদ্ধি

Right Costomer– সঠিক কাস্টমার

Low Cost – স্বল্প খরচ

Make Brand Easily– সহজেই ব্রান্ড তৈরি

সহজ মাধ্যম:

সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যম গুলো হল কোন ব্যবসা বা মার্কেটিং করার জন্য সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। কেননা, এখানে আপনার ব্যবসা করার জন্য আপনাকে অফলাইন এর মত জায়গা নির্বাচন, দোকান তৈরি, প্রোডাক্ট সংগ্রহ এসব বিষয়। কিন্তু, আপনি চাইলেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনলাইন এ একটা ব্যবসা তৈরি করে নিতে পারবেন।

অনেক বেশি বৃদ্ধি:

আপনি যদি সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এবং সঠিকভাবে মার্কেটিং করেন আপনার ব্যবসাকে সহজেই অনেক বেশি বৃদ্ধি করা সম্ভব।যেটা কিন্তু অফলাইন এ প্রায় অসম্ভব।

সঠিক কাস্টমার:

নেটওয়ার্ক মাধ্যম গুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সঠিক কাস্টমার। আপনি যদি অফলাইন এ মার্কেটিং করেন তাহলে কখনোই জানতে পারবেন না আপনার সঠিক উপযুক্ত কাস্টমার কারা। মনে করেন, আপনার পণ্য সম্পর্কে মার্কেটিং করার জন্য টিভিতে এ্যাড দেখালেন। যেটা ছিল শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য। কিন্ত, টিভি তু প্রত্যেকেই দেখে, এতে এ্যাডটিও প্রত্যেকেই দেখতেছে। অন্যদিকে, ফেসবুক এ যদি আপনি সঠিক কাস্টমার সিলেক্ট করে এ্যাড রান করেন তাহলে ঐ এ্যাডটি শুধুমাত্রসিলেক্ট করা কাস্টমার গুলোর কাছেই যাবে। কারন ফেসবুক সবসময় ট্রেক করতেছে কে কি করতেছে, কি দেখতেছে। সঠিক কাস্টমার এটাই মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা।

স্বল্প খরচ:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোন খরচ হয় না। যতটুকু মার্কেটিং ততটুকু খরচ। শুধুমাত্র এই নেটওয়ার্ক মাধ্যম অতি স্বল্প খরচ এ উপযুক্ত কাস্টমার খুজা বা মার্কেটিং করা সম্ভব।

ব্রান্ড তৈরি:

অনলাইন ব্যবসাকে যদি আপনি ব্রান্ডহিসেবে তৈরি করতে ছান তাহলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই মাধ্যম গুলোতে যদি আপনি সঠিকভাবে প্রমোশন করতে পারেন, কাস্টমারকে ভ্যালু দিতে পারেন। তাহলেই দেখতে পাবেন আপনার কাস্টমাররাই আপনারব্যবসাকে সবার কাছে পৌছিয়ে দিচ্ছে। কাস্টমার এর একটা শেয়ারে কয়েক হাজার কাস্টমার তৈরি হতে পারে। এতে করে আপনার বিজনেসটি অনেক বেশি গ্রো হতে থাকবে। অবশেষে এাটি ব্রান্ড এ রূপান্তরিত হবে।

সোশিয়াল মিডিয়া মার্কেটিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমান সময়ে প্রতিটা ব্যাক্তিই সোশিয়াল মিডিয়া এর সাথে যুক্ত এবং তারা কম-বেশি সোশিয়াল মিডিয়া গুলো ব্যবহার করেই থাকে। এই সোশিয়াল মিডিয়া গুলো ব্যবহারকারী প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। এই বিশ্বে প্রায় ২বিলিয়ন এর বেশি মানুষ এই সোশিয়াল মিডিয়া গুলোতে সক্রিয় থাকে। আপনি যদি সঠিক ভাবে এই মাধ্যম গুলোতে মার্কেটিং করতে পারেন, তাহলে আপনার টার্গেটেট ১০০% কাস্টমারএর মধ্যে ৬০-৭০% কাস্টমার সহজে পেয়ে যাবেন। এজন্য সামাজিক মাধ্যম গুলোর মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ।

সোশিয়াল মিডিয়া মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

বর্তমানে ইন্টারনেট এ অনেক সোশিয়ার মিডিয়া রয়েছে। এক একটা সোশিয়াল মিডিয়া প্লাটফর্ম এর মার্কেটিং এর ধরন ভিন্ন ধরনের। তাই আপনি যে সোশিয়াল মিডিয়া তে মার্কেটিং করবেন তার মার্কেটিং এর পদ্ধতিটা জানতে হবে। নিচে জনপ্রিয় কয়েকটা সোশিয়াল মিডিয়া এর সংক্ষিপ্ত মার্কেটিং পদ্ধতি বর্ণনা করা হল।

ফেসবুক মার্কেটিং

ফেসবুক হল বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় একটা প্লাটফর্ম। ফেসবুক প্রতি মাসে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন সক্রিয় ব্যবহার কারি রয়েছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১ বিলিয়ন ব্যবহারকারী ফেসবুক চালু করে এবং কমপক্ষে ত্রিশ মিনিট তারা এই ফেসবুক ব্যবহার করে। এছাড়া, কম-বেশি ১ বিলিয়নের বেশি বিজনেস পেইজ রয়েছে।আপনার পণ্য গুলোকে মার্কেটিং করার জন্য সবচেয়ে সেরা প্লাটফর্ম হল ফেসবুক। আপনি যদি সঠিকভাবে ফেসবুক মার্কেটিং করতে পারেনতাহলে আপনি ১০০ জন কাস্টমার এর মধ্যে ৫০-৬০ জন কাস্টমার আপনি সহজেই পেতে পারেন।

ফেসবুক এ আপনি তিনভাবে মার্কেটিং করতে পারেন।

ফেসবুক প্রোফাইল

ফেসবুক গ্রুপ

ফেসবুক পেইজ

ফেসবুক প্রোফাইল:

ফেসবুক এ আপনি একটি আইডি খুলে সেই আইডিতে আপনার পণ্য বা সেবা সমূহকে আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড এর কাছে প্রচার করতে পারেন। তবে, আপনি প্রোফাইল এর মাধ্যমে সীমিত আকারে প্রচার করতে পারবেন।

ফেসবুক গ্রুপ:

ফেসবুক এ গ্রুপের মাধ্যমে আপনি আপনার পণ্য বা সেবা কে সেই গ্রুপের মেম্বারদের কাছে প্রচার করতে পারবেন। আপনি এমন ১০ টা গ্রুপে জয়েন করুন, যেখানে কমপক্ষে ৫-১০ হাজার মেম্বার আছে এবং আপনার পণ্য বা সার্ভিস রিলেটেড। এরপর আপনি ঐ গ্রুপ গুলোতে আপনার পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। এতে আপনি সহজেই ৫০হাজার থেকে ১ লক্ষ মানুষের কাছে সহজেই আপনার পণ্য সম্পর্কে জানিয়ে দিতে পারবেন।

ফেসবুক পেইজ:

ফেসবুক এ মার্কেটিং করার সবচেয়ে সেরা মাধ্যম হল ফেসবুক পেইজ। আপনার পণ্য বা সেবা অনুযায়ী ব্র্যান্ডিং নাম দিয়ে একটি পেইজ তৈরি করুন। এরপর, পেইজ এর লুগু, কভার ফটো এবং প্রয়োজনীয় কনটেন্ট দিয়ে পেইজটিকে সঠিকভাবে অপ্টিমাইজড করুন। অপ্টিমাইজড করার পর প্রয়োজনীয় কন্টেন্ট দিয়ে এ্যাড রান করুন। এই এ্যাডের মাধ্যমে আপনার পণ্য সম্পর্কে হাজার থেকে লক্ষমানুষকে জানাতে পারবেন।

এ্যাডটি অবশ্যই সঠিক কাস্টমারকে টার্গেট করে রান করতে হবে, না হলে দিনশেষে ফলাফল শূণ্যই পাবেন। কাজগুলো চাইলে আপনি নিজেও করতে পারেন অথবা একজন প্রফেশনাল মার্কেটারকে দিয়েও করাতে পারেন।

ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং:

ফেসবুক এর আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইনস্টাগ্রাম। ইনস্টাগ্রাম হলো একটি ফটো শেয়ারিং সোশিয়াল মিডিয়া। ইনস্টাগ্রাম এ আপনার পণ্য বা সার্ভিস এর মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে একটি প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। প্রোফাইলটি অপ্টিমাইজড করতে হবে। এরপর আপনার পণ্য বা সার্ভিস এর তথ্য দিয়ে ছবির মাধ্যমে কাস্টমার এর কাছে পৌছাতে পারবেন। ফেসবুক এ রান করা এ্যাডটি আপনি চাইলে ইনস্টাগ্রাম এও একসাথে রান করতে পারবেন। এর জন্য এ্যাডটি রান করার সময় ইনস্টাগ্রাম আইডি টি কানেক্ট করে রান এ্যাড ইন ইনস্টাগ্রাম অপশনটি চালু করে দিতে হবে।

লিংকডইন মার্কেটিং:

বর্তমানে সময়ের সবচেয়ে প্রফেশনাল সোশিয়াল মিডিয়া হল লিংকডইন। আপনার পণ্য বা সার্ভিস যদি বাইরের দেশগুলোর জন্য হয়। তাহলে লিংকডইন আপনার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। লিংকডইন এ মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে বিজনেস পেইজ খুলতে হবে এবং সেই পেইজকে সঠিকভাবে অপ্টিমাইজড করে নিতে হবে। এরপর, আপনার সকল পণ্য বা সার্ভিস সমূহ লিংকডইন এ শেয়ার করুন। সাথে কাস্টমার তৈরি করুন। লিংকডইন এও আপনি পেইড মার্কেটিং করতে পারবেন।

টুইটার মার্কেটিং:

টুইটার হল জনপ্রিয় সোশিয়াল মিডিয়া গুলোর মধ্যে একটি। টুইটার এ মার্কেটিং খুব সহজভাবে করা যায়। টুইটার এ মার্কেটিং করার জন্য টুইটার এ আপনাকে একাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর: আপনার পণ্য বা সার্ভিস সম্পর্কে ১৪০ ওয়ার্ডের টুইট করুন এবং ফলোয়ার তৈরি করুন। এভাবে আপনি খুব সহজেই টুইপার এ মার্কেটিং করে সহজেই কাস্টমার তৈরি করে নিতে পারেন।

পিন্টারেস্ট মার্কেটিং:

অন্য সবগুলোর মত পিন্টারেস্ট ও বর্তমানে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উটেছে। ছবি শেয়ারিং এই নেটওয়ার্ক মাধ্যমটির ব্যবহারকারী প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। পিন্টারেস্টএ কম-বেশি প্রতি মাসেই ১ বিলিয়নের কাছাকাছি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। পিন্টারেস্ট এর সবচেয়ে বড় সুবিধা এখানে শেয়ার করা ছবি গুলো সরাসরি গুগল ইমেজ এ পাওয়া যায়। এতে খুব সহজেই কাস্টমার এর কাছে পৌছানে যায়। পিন্টারেস্ট এ মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে একাউন্ট তৈরি করতে হবে। সঠিকভাবে অপ্টিমাইজড করে নিতে হবে। এরপর, আপনার ব্যবসা বা সার্ভিস রিলেটেড ছবি গুলো পিন করতে হবে। বোর্ড তৈরি করতে হবে। এভাবে আপনি পিন্টারেস্ট থেকে খুব সহজেই ট্রাফিক বা কাস্টমার পেয়ে যাবেন।

ইউটিউব মার্কেটিং:

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইটটি হল ইউটিউব। ইউটিউব এ তিন বিলিয়নেরও বেশি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে এবং প্রতিদিন কম-বেশি এক বিলিয়ন সক্রিয় ব্যবহারকারী আছে। প্রতিটা মানুষ প্রতিদিন একবার হলেও ইউটিউব ব্যবহার করে। তাদের প্রয়োজনীয় ভিডিও গুলো দেখে এবং তাদের প্রয়োজনীয় ভিডিও গুলো খুজার জন্য ইউটিউব এ সার্চ করে। আপনি যদি ইউটিউব এ মার্কেটিং করেন তাহলে একবার ভেবে দেখুন কি পরিমান কাস্টমার এর কাছে আপনি পৌছাতে পারবেন। আপনার ভিডিও গুলো দেখে তাদের মধ্যে একটা পজিটিভিটি আসবে। তারা আপনার পণ্য গুলো কিনতে বাধ্য হবে। এছাড়া সহজেই আপনার ব্যবসাকে একটি ব্রেন্ড হিসেবে তৈরি করতে পারবেন।

ইউটিউব এ মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে আপনার ব্রেন্ড নাম একটি চ্যানেল তৈরি করতে হবে। লুগু এবং ব্যানার দিয়ে চ্যানেলটিকে অপ্টিমাইজড করে নিতে হবে। এরপর, আপনার পণ্য বা সার্ভিস রিলেটেড ভিডিও তৈরি করে আপলোড করে দিতে হবে।

চেস্টা করবেন ভিডিও গুলো ইউজার এর পছন্দনিয় হয় মত তৈরি করার। এভাবে ইউটিউব মার্কেটিং করে আপনার ব্যবসায়ে সঠিক কাস্টমার গুলো খুজে পাবেন।.সোশিয়াল মিডিয়া মার্কেটিং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap