অল্প বয়সে সফলতা পেতে যে কাজ গুলো করা ‍উচিৎ

প্রত্যেকে চায় জীবনকে সফল করতে। ঠিক তেমনি জীবনকে সফল করতে প্রয়োজন সব কাজ সঠিকভাবে করা। দিক-নির্দেশনা মেনে ছলা। কিছু কাজ এড়িয়ে ছলা। এইসব বিষয় গুলো যদি আপনি জানেন তাহলে আপনার সফল হওয়াটা অনেকটাই হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, সফলতা কখনো আপনার হাতে এসে ধরা দিবে না। তাই, সবসময় আপনাকে সবকিছু জেনে শুনে করতে হবে। চলুন যেনে নিই, এমন কিছু দিক-নির্দেশনা সম্পর্কে যা আপনাকে সফল হতে সাহায্য করবে।

সবসময় যতবেশি সম্ভব নতুন কিছু শিখা

আমাাদের দেশের বেশিরভাগ ছেলে-মেয়েরা নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী নয়। এমনকি একজন ভালো চাকরি ওয়ালাও তিনি যা জানেন তার থেকে অন্য কিছু শিখতে আগ্রহী নয়। যেমনঃ আপনি যদি একজন ব্যাংকারকে জিজ্ঞেস করেন

আমাদের দেশের টাকার মান এক কমথেছে কেন?

সরকার কেন বেশি বেশি টাকা ছাপায় না?

অ্যামেরিকান ডলার কেন সবচেয়ে জনপ্রিয়? চায়না কেন এত শক্তিশালি?

এই ধরনের ছোট্ট ছোট্ট প্রশ্ন গুলো করে থাকেন তাহলে সে এগুলোর উত্তর দিতে পারবে না। কারন. তারা তাদের যা প্রয়োজন সেগুলো ছাড়া অন্য কিছু জানতে ছায়না। অন্যদিকে আপনি যদি উন্নত দেশগুলো একজন থেকে তাদের দেশের ব্যাপারে বা বিশ্বের যেকোন একটি ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করেন তাহলে তারা কম-বেশি উত্তর দিতে পারবে। কারন.? তারা সবসময় নতুন কিছু আগ্রহী এবং যত নতুন বিষয়ে পায় তারা শিখে নেয়। আপনি যতবেশি নতুন বিষয় নিয়ে শিখবেন ততবেশি আপনি বিশ্ব সম্পর্কে জানবেন। তাই সবসময় যতবেশি পারবেন নতুন কিছু শিখার চেষ্টা করবেন।

টাকা আয়ের জন্য বিভিন্ন মাধ্যম তৈরি করা

আমাদের দেশে ছেলেমেয়েরা ২৫ বছরের আগে টাকা আয়ের চেষ্টা করে না। বাবার টাকা নিয়ে জীবন ছালাতে থাকে। এতে থাকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এবং বিভিন্ন কথাও শুনতে হয়। এতে সেই ছেলে-মেয়েরা যদি টাকা আয়ের জন্য কিছু মাধ্যম তৈরি করে রাখতো যেমনঃ

টিউশনি করা।

পার্ট-টাইম জব করা।

ছোট ছোট সার্ভিস সেন্টারের কাজ করা।

ব্লগিং করা।

ইউটিউবিং করা।

এই ধরনের আরো অনেক কাজ আছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি কম-বেশি টাকা আয় করতে পারবেন। এতে আপনার কিছুটা খরচ আপনি নিজেই চালিয়ে নিতে পারবেন। এছাড়া কিছু বাড়তি আয় হলে তা ভবিষ্যতের জন্য সেভিং করে রাখতে পারবেন। তাই সবসময় চেস্টা করবেন টাকা আয়ের জন্য বিভিন্ন মাধ্যম তৈরি করে রাখতে। মনে রাখবেন, টাকা আয় করতে গিয়ে আবার যেন খারাপ কোন পথ বেঁচে না নেন। এতে আপনার জীবনটাই ধ্বংস হবে।

আরো পড়ুনঃ (Passive Income) প্যাসিভ ইনকাম কি? কেন প্যাসিভ ইনকাম আয়ের সেরা মাধ্যম

শর্ট-কার্ট পথ না খুজা

আমরা কোন কাজ করার ক্ষেত্রে, নতুন কিছু শিখার ক্ষেত্রে, এমনকি নিজের ক্যারিয়ার এর ক্ষেত্রেও আমরা শর্টকার্ট পথ খুঁজে থাকি। আমরা সবাই জানি যে শর্টকার্ট কোন কিছু ভাল না। তবুও আমরা লোভের কারনে শর্টকার্ট এর দিকে এগুতে থাকি৷

আপনার বয়স যদি ৪০-৫০ হয় তাহলে আপনার জন্য শর্টকার্ট পথে কাজ করা উচিৎ। কারণ, এটা আপনার শেষ সময়। ঐ শর্টকার্ট এ যদি ভালো কিছু হলে ভালো না হলে অন্য পথ খুজতে হবে। কারণ আপনাকে এই বয়সে সংসার ছালাতে হবে। ছারদিকে দেখতে হবে।

কিন্তু, আপনার বয়স যদি ২৫ এর কম হয় তাহলে আপনার অনেক সময় আছে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করার। যে কাজটা যত দীর্ঘসময় ধরে করতে পারবেন ততবেশি আপনি লাভবান হবেন। তাই যেকোন কিছু করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় ধরে করার চেস্টা করবেন।

নতুন কিছু করার চেস্টা করা

নতুন কিছু করা এই বিষয়টা আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের মাঝে খুজে পাওয়া মুশকিল। আবার অনেকেই করতে চাইলেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, পরিবার সাপোর্ট, সঠিক পরিবেশ পায় না। যারফলে আর সামনে এগিয়ে যেতে পারে না।

কিন্তু, জীবনে যদি সফল হতে চান তাহলে এটাই সঠিক সময় নতুন কিছু করার। এই বয়স থেকে শুরু করলে পরে গিয়ে আপনাকে আপনার ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। সুতরাং, আপনার বয়স যদি ২৫ বছরের কম হয় তাহলে সবসময় চেস্টা করুন নতুন কিছু করতে এবং জীবনকে সুন্দর করে তুলতে।

বড় বড় রিস্ক নেওয়া

রিস্ক নেওয়া বিষয়টা আমাদের দেশের মানুষদের মাঝে বিশেষকরে এই বয়সি ছেলে-মেয়েদের মাঝে খুবই কম খুজে পাওয়া যায়। কিন্তু আপনি যত বেশি রিস্ক নিবেন ততবেশি জীবনের সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবেন। এখন হয়ত আপনার ৫০০০ টাকা আছে আপনি কোন একটা কাজে ইনভেস্ট করতে চাচ্ছেন। লস হবার ভয়ে পারতেছেন না।

কারণ ৫০০০ টাকা গুলো অনেক কস্টের টাকা। এরকম যদি আপনি ভাবতে থাকেন তাহলে আপনার কোন কিছুই করা হবে না। যদি রিস্ক নিয়ে শুরু করে দেন তাহলে আপনি একদিন টিকি সফল হবেন। তাই জীবনে যতবেশি সম্ভব রিস্ক নেওয়ার চেস্টা করুন।

আরো পড়ুনঃ ছাত্রদের জন্য অনলাইনে আয় করার সেরা ৫টি মাধ্যম ২০২২

সময়ের সঠিক ব্যবহার করা

প্রত্যেক মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল সময়। আপনি সময়কে যত সঠিকভাবে ব্যবহার করবেন ততবেশি আপনি সফল হবেন। সাধারণত ২৫ বছরের নিছে ছেলে-মেয়েরা সময়কে গুরুত্ব দেয় না। তারা বেশিরভাগ সময় গেম খেলে, মুভি দেখে, সোশিয়াল মিডিয়ায় পড়ে থাকে সময়কে অযথাভাবে ব্যয় করে ফেলে। তারা যদি এই সময়ে ভালো কোন স্কিল শিখে বা কোন ব্যবসা করে বা নতুন কিছু করার চেস্টা করে তাহলে তাকে পরবর্তীতে সময় নিয়ে আফসোস করতে হবে না। তাদের মা-বাবাকেও ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যতে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

সঠিক বন্ধু খুঁজে বের করা

বন্ধু সবার আছে এবং থাকে। তবে সব বন্ধু আপনার মত হবে না৷ কেউ ভালো, কেউ খারাপ, কেউ ধনী, কেউ গরিব এরকম তাকে। আপনি যখন থেকে নিজেকে সফল করতে চাইবেন, নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এগিয়ে যেতে তাকবেন তখন থেকে আপনাকে খারাপ বন্ধুর সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। চিরতরে ভুলে যেতে হবে না একটু দূরে থাকতে হবে।

আপনি চাচ্ছেন কোন একটা বিজনেস করতে বা কোন একটা স্কিল শিখতে অথবা অন্য কোন কাজ করতে৷ এখন আপনার বন্ধুরা আছে গেম, মুভি এবং ফেসবুক লাভ❤️ রিয়েক্ট আর 💬চ্যাটিং নিয়ে ব্যাস্ত৷ এখন যদি আপনি তাদের সাথে থাকেন তাহলে কি আপনার মন চাইবে ঐ কাজটি করতে?

আপনাকে এমন বন্ধুর সাথে সঙ্গ দিতে হবে যারা আপনার মত বিজনেস করতে ছায়। নিজেদের ক্যারিয়ারকে উন্নত করতে ছায়। একসাথে বসে নতুন নতুন বিজনেস প্ল্যানিং করতে ছায়৷ তারাই হবে আপনার সঠিক বন্ধু। সুতরাং, সময় তাকতে খারাপ বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করে সঠিক বন্ধুর সঙ্গ খুজে বের করুন। তাহলেই আপনি আরো একধাপ বেশি এগিয়ে যেতে পারবেন।

এগুলো ছিল আপনাদের সফল হওয়ার কিছু জন্য দিক-নির্দেশন। একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত সফল হতে পারবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি সফলতা পাওয়ার জন্য চেস্টা করতেছেন এবং পরিশ্রম করতেছেন।

এই ব্লগটা উপকারী মনে হলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button