ফেসবুক পেইজ এ ভিউ এবং এঙ্গেজমেন্ট বাড়ানোর উপায়।

বর্তমানে ফেসবুক এ কয়েক মিলিয়ন পেইজ আছে। এইসব পেইজে যথেষ্ট পরিমান ফলোয়ার আছে। যখন কোন একটি পোস্ট করা হয়, তখন মোট ফলোয়ার এর ৫-১০% ভিউ হয়। কিন্তু কেন? আজকে আমারা জানব, ফেসবুক পেইজ এ ভিউ না হওয়ার কারন এবং পোস্ট এ ভিউ এবং এঙ্গগেজমেন্ট বাড়ানোর উপায়।

ফেসবুক এই কাজটা একটা এলগরিদম এর মাধ্যমে হয়ে থাকে। যেটার নাম Edge Rank.

আবার এই এলগরিদম এর কয়েকটি ফেক্টর আছে। যেগুলোর মাধ্যমে এই এলগরিদমটি কাজ করে।

Factors:

Affinity
Content
Consistency
Variety
Negative Impact
Time

Affinity

মানে হল Intrest বা আগ্রহ। ফেসবুক আপনার একটিভিটি গুলো সবসময় ট্র্যাক করে। ফেসবুক জানে আপনি কখন কি করেন। কখন কোথায় লাইক করেন, কোন ভিডিওটি দেখেন, কোন পোস্টটা আপনি শেয়ার করেন। এইসব বিষয়ের উপর নির্ভর করে আপনার মাঝে পোস্ট গুলো দেখায়। আপনার যদি ৫০০০ ফ্রেন্ড থাকে তাদের মধ্যে আপনি যাদের পোস্ট গুলো রিয়েক্ট, কমেন্ট, শেয়ার বেশি করেন তাদের পোস্ট গুলো সবার প্রথমে দেখাবে। একটা পেইজ এর ক্ষেত্রেও ঠিক একই। আপনার পেইজ এর পোস্ট যত বেশি লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করবে ততবেশি পোস্ট গুলো ফলোয়ার এর কাছে দেখাবে।

Content

যেটা আপনি আপনার পেইজ এ শেয়ার করতেছেন। সেটা কোন ছবি, ভিডিও, লিখা বা যেকোন কিছু হতে পারে। আপনার কন্টেন্ট গুলো অবশ্যই ফলোয়ারদের পছন্দমত হতে হবে। আপনাকে জানতে তারা কোন ধরনের কনটেন্ট গুলো সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে ঐ কনটেন্ট গুলো আপনাকে বেশি করে আপলোড দিতে হবে। এতে আপনার এংগেইজমেন্টটা অনেক বাড়বে।

Consistency

অর্থাৎ মনযোগ বা সংযোগ। আপনি আপনার পেইজের একটিভিটি কেমন দিচ্ছেন। আজকে একটা পোস্ট দিলেন একসপ্তাহ কোন একটিভিটি নিলেন না বা আজকে সারাদিনে ২০ পোস্ট করলেন, এরপর একমাস কোন একটিভিটি রাখলেন না। এই কাজটা কখনো করবেন না। অল্প একটু হলেও পেইজের সাথে একটিভিটি রাখতে হবে। ইউজারদের সাথে কানেক্টেড থাকতে হবে। অবশ্যই একটা নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পোস্ট গুলো করতে হবে। যেমন: প্রতিদিন একটা বা দুইদিন পর একটা বা প্রতি সপ্তাহে একটা। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট টাইম অনুযায়ী শিডিউল করে রাখতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়মত আপনার পোস্টটি পাবলিশ হয়ে যাবে। এতে ইউজারদের সাথে ভালো কানেকশন তৈরি হয়।

Variety

ভ্যালো বা মূল্য। আপনার পেইজটি বা পেইজের পোস্ট গুলো কেন ইউজার এর কাছে যাবে? তাদের কি কাজে আসবে। কেন তারা আপনার পেইজটি লাইক করবে, পোস্ট গুলো শেয়ার করবে। অবশ্যই আপনার পেইজ এর একটা মূল্য থাকতে হবে। ইউজার এর কাছে একটা ভ্যালু থাকতে হবে। এই জিনিসটা ফেসবুক এর এলগরিদম বুঝতে পারে। ইউজাররা যত বেশি আপনার পোস্টকে ভ্যালো দিবে ততবেশি তাদের কাছে পোস্ট গুলো পৌছাবে।

Negative Impact

যেটা একটা পেইজের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। আপনার পেইজের যেকোন পোস্ট এ যদি ইউজারদের পছন্দ না হয় তাহলে তারা আপনার পোস্ট এ Hide ad, Hide this post, Report this post. এ ক্লিক করবে। এতে ফেসবুক বুঝে যাবে পেইজের পোস্ট গুলো ইউজারদের জন্য ক্ষতিকর। এরপর, পেইজের পোস্ট গুলো ইউজার এর কাছে আর পৌছাবে না। এতে আপনার পেইজের ভিউ কমে যাবে। এছাড়া পেইজ এ যদি অতিরিক্ত রিপোর্ট পড়ে তাহলে ফেসবুক আপনার পেইজটি ব্যান করে দিতে পারে। সবসময় চেস্টা করতে হবে ইউজারদের কাছে ভালো কিছু শেয়ার করার জন্য যাতে তারা উপকৃত হয়।

Time

ফেসবুক এর ইউজাররা সবসময় রিচেন্ড পোস্ট গুলো বেশি পছন্দ করে। আপনার পোস্ট গুলো যত আপডেটেট হবে ফেসবুক ততবেশি ইউজার এর কাছে পোস্ট গুলো পাটাবে। তাই সবসময় নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পোস্ট করলে ইউজাররা পোস্ট গুলো সঠিক সময়ে দেখতে পাবে। এতে ইউজার এর এটেনশনটা বাড়বে।

*

উপরের এই ফেক্টর গুলোর উপর নির্ভর করে একটা পেইজ এর পোস্ট গুলো ইউজারদের কাছে পৌচায়। এই ফেক্টর গুলো যদি সঠিকভাবৈ মেনে চলেন তাহলে আপনার পেইজ এর পোস্ট গুলোর ভিউ এবং এঙ্গেজমেন্ট দুইটাই বাড়বে। এছাড়া পেইজে ভিবিন্ন ধরনের অফার প্রমোট বা গিভওয়ে করতে পারেন। যাতে পেইজ এর ফলোয়াররা আরো বেশি একটিভ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap