Online Trick
Trending

প্রোগ্রামিং কি? কত প্রকার ও কি কি? ( Programming bangla guidline )

প্রযুক্তি আমাদের জীবন কে অনেক সহজ করে দিয়েছে। সেকেন্ডের মধ্যে পৃথিবীর এক স্থান হতে অন্য জায়গায় যোগাযোগ করা যায় এমনকি মিনিটের মধ্যে অনেক বড় বড় হিসাব গুলো একদম সহজেই সমাধান করা যায়। আসলে আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি যে কম্পিউটার গুলো বা ওয়েবসাইট গুলো কিভাবে কাজ করে।  আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন এসেছিল যে ক্যালকুলেটর এত তাড়াতাড়ি কিভাবে নির্ভুল উত্তর দিতে পারে? আপনি যদি না জেনে থাকেন তাহলে জেনে নিন প্রোগ্রামিং কি? কত প্রকার ও কি কি? আশা করি আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

 

আসলে কোনো ডিভাইস বা কম্পিউটার একা একা কোনো কাজ করতে পারে না। তাদের কে একটি নির্দেশনা দেয়া লাগে তারা সেই নির্দেশনা মতেই কাজ করে থাকে। এটাকে প্রোগ্রামিং বলা হয়। নিচে আমি প্রোগ্রামিং কি?  প্রোগ্রামিং কেন প্রয়োজন?  ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলবো। কথা না বাড়িয়ে চলুন আমাদের মেইন টপিকে চলে যাই।

প্রোগ্রামিং কি?

 

প্রোগ্রামিং হলো কম্পিউটার বা বিভিন্ন ডিভাইসকে কাজ করানোর উদ্দেশ্যে নির্দেশনা দেওয়ার প্রক্রিয়া।

যারা প্রোগ্রামিং করেন তাদেরর প্রোগ্রামার বলা হয়। আমি উপরে বলেছি যে কম্পিউটার একা একা কোনো কাজ করতে পারে না। তাকে যে নির্দেশনা দেয়া হয় সে ঠিক মতোই কাজ করে থাকে। যেমন ধরুনঃ আমরা যখন ক্যালকুলেটর এর মধ্যে কোনো যোগ – বিয়োগ এর হিসাব ইনপুট করি তখন ক্যালকুলেটর তার ভিতরে থাকে নির্দেশনা মতে কাজ করে একদম নির্ভুল হিসাব টা আমাদের সামনে দেখায়।  এসবই হয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর জন্য। 

আমার এই আর্টিকেল বাংলাতে লেখা হয়েছে যার জন্য আমরা যারা বাংলা বুঝি তারা খুব সহজেই আমার লেখাটি পড়তে এবং বুঝতে পারছেন।  পৃথিবীতে অনেক ভাষা রয়েছে যেমনঃ হিন্দি, ইংরেজি, জাপানী ইত্যাদি। কিন্তু সমস্যা হলো যে আমরা মানুষরা এসব ভাষা বুঝলেও একটি রোবট বা মেশিন বা কম্পিউটার এসব ভাষা বুঝে না। কম্পিউটার শুধু বাইনারি ল্যাঙ্গুয়েজ বুঝে। এই ল্যাঙ্গুয়েজই হলো প্রোগ্রামিং।

প্রোগ্রামিং ভাষা কি?

 

প্রোগ্রাম ল্যাঙ্গুয়েজ এর বিষয়ে ওপরে আমি বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছি। 

সাধারনত কম্পিউটার আমাদের ভাষা বুঝতে পারেনা।

তাই, কম্পিউটার দিয়ে যেকোনো কাজ করানোর জন্য যদি আমরা আমাদের নিজেদের ভাষা ব্যবহার করি তাহলে তারা আমাদের কথা মতো কাজ করতে পারবে না।

তবে, এক বিশেষ ধরণের ভাষা রয়েছে যেটা প্রত্যেকটি কম্পিউটার বা মেশিন  বুঝতে পারে।

সেটা হলো বাইনারি ল্যাঙ্গুয়েজ যেখানে ০-৯ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই ভাষা ব্যবহার করে কম্পিউটার এর জন্য নির্দেশ তৈরি করাটা প্রচুর কষ্টের ব্যাপার।

কিন্তু কিছু আধুনিক ও উন্নত ভাষা যেমন “C”, “C ++”, “Python”, “Java” ইত্যাদি ব্যবহার করে আমরা কম্পিউটারের জন্য নির্দেশনা বা প্রোগ্রাম সহজেই তৈরি করা যায়। আমরা যখন জাভা বা পাইথন বা সি প্লাস দিয়ে কোনো প্রোগ্রাম করলে সেটা পরে বাইনারি ল্যাঙ্গুয়েজ এ রুপান্তর করা হয়। যার জন্য কম্পিউটার সহজেই প্রোগ্রাম রিড করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারে। 

প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হলো মানুষদের সাথে কম্পিউটার এর যোগাযোগ করার একটি মাধ্যম। 

 

প্রোগ্রামিং কত প্রকার

 

প্রোগ্রামিং কে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।  যেমনঃ

১/ Machine languages 

২/ Assembly languages 

৩/ High-level languages 

এবার আমরা এই তিনটি বিভাগ নিয়ে একটু আলোচনা করে নিই।

 

Machine language কি ?

 

আগেকার সময়ে কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরি করার ক্ষেত্রে কেবল machine language ব্যবহার করা হতো।

এই ভাষাকে first generation language ডাকা হয়। 

মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে তৈরি করা কম্পিউটার প্রোগ্রামে কিছু series of binary patterns যেমনঃ 010011101 ব্যবহার করা হয়।

এই বাইনারি pattern গুলোর মাধ্যমেই কম্পিউটারের জন্য তথ্য,টাস্ক ও নির্দেশনা  তৈরি করা হয়।

আমি ওপরে বলেছি যে কম্পিউটার কেবল বাইনারি ল্যাঙ্গুয়েজ  কে বুঝতে পারে 

এবং এই বাইনারি ভাষার ক্ষেত্রে আমরা কম্পিউটারকে “0” এবং “1” ব্যবহার করে নির্দেশা দিয়ে থাকি, যাকে আমরা মেশিন ভাষা (machine language) বলে থাকি। 

এই বাইনারি ভাষাতে তৈরি করা প্রোগ্রাম গুলো একটি কম্পিউটারে খুব সহজেই রান করা যেতো তবে এই বাইনারি প্রোগ্রাম লিখতে একজন প্রোগ্রামারকে অনেক গুলো কোড মনে রাখতে হতো যা অনেক কষ্ট কর কাজ।  তবে এখন অনেক গুলো প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরি করা হয়েছে যেগুলো করতে যে কোডিং করতে হয় তা অনেক সহজ। এসব প্রোগ্রামিং ভাষা দিয়ে কোনো প্রোগ্রাম তৈরি করলে কম্পিউটার প্রথমে সেটাকে তার নিজের ভাষা বাইনারি ল্যাঙ্গুয়েজে রুপান্তর করে এবং পরে তার আউট পুট প্রদান করে। 

 

Assembly languages কি?

প্রোগ্রামারদের জন্য প্রোগ্রামিং করাটা আরো সহজ করার উদ্দেশ্যেই এই প্রোগ্রামিং ভাষাটিকে তৈরি করা হয়েছিল। 

এই ভাষাতে প্রোগ্রাম গুলোকে “Mnemonics” হিসেবে লিখা হয়।

যেমন, “NOV”, “ADD”, “SUB” ইত্যাদি।

কম্পিউটার কেবল বাইনারি ল্যাঙ্গুয়েজ বুঝতে পারে বিদ্বায় অ্যাসেম্বলি ল্যাঙ্গুয়েজ গুলোকে ব্যবহারে আনার আগে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে  অনুবাদ করতে হয়।

কেবল তখন একটি কম্পিউটার সেই assembly ভাষা দিয়ে তৈরি করা প্রোগ্রামটি বুঝতে পারবে।

Assembly থেকে machine language এ অনুবাদ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা অনুবাদকটিকে বলা হয় “assembler“

High-level languages কি ?

একজন প্রোগ্রামারের কাছে এই  হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ গুলো অনেক আধুনিক এবং সহজেই মনে রাখা যেতে পারে।

কারণ, এই ধরণের ভাষা যেমন, “C”, “C++”, “JAVA”, “PYTHON” ইত্যাদি English ভাষার মতোই।

ইংরেজি শব্দ, নাম্বার এবং বিভিন্ন symbols ব্যবহার করে এই ভাষা লিখা হয়।

তাই, এই আধুনিক ভাষা গুলো প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রে মনে রাখাটা অনেক সহজ ব্যাপার।

এ ক্ষেতেও আমরা হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে কোনো প্রোগ্রাম তৈরি করে কম্পিউটার এ ইনপুট করলে কম্পিউটার প্রথমে সেটাকে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে রুপান্তর করে তারপর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আউটপুট শো করে।

প্রোগ্রামিং কিভাবে শিখব 

এতক্ষণ আমি প্রোগ্রামিং নিয়ে অনেক কিছু কথা বললাম এখন আমরা কিভাবে প্রোগ্রামিং শিখতে পারি সেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো।

আপনি যদি প্রোগ্রামিং শিখতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজটি আপনি ভালো পারেন। আমি আপনাকে সাজেস্ট করবো যে ল্যাঙ্গুয়েজটি সবচেয়ে সহজ সেটি দিয়ে শিখা শুরু করা। 

তারপর ইউটিউব ভিডিও দেখে এবং বিভিন্ন ব্লগ পড়ে এর বিষয়ে বেসিক বিষয় গুলো জেনে নিবেন।

প্র্যাকটিস এর জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার এ ইনস্টল করে নিবেন।

প্রতিদিন যা যা শিখবেন তা এইসব সফটওয়্যারে লিখে প্র্যাকটিস করবেন।

নিজের একটি প্রোগ্রাম তৈরি করার চেষ্টা করুন। আপনি যদি ভালো কোনো কোচিং সেন্টার থেকে কোর্স করে নিতে পারেন তাহলেই সবচেয়ে ভালো হয়। 

 প্রথম দিকে কাজ শিখতে হয়তো ভালো লাগবে না আপনার মনকে শক্ত করে কাজ শিখতে হবে। 

প্রোগ্রামিং শিখা কি ঠিক কাজ হবে

 

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার প্রোগ্রামার দের চাহিদা প্রচুর। আমাদের চারপাশের অনেকেই ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্লগিং ইত্যাদি কাজ শিখলেও প্রোগ্রামিং শিখা একটু কঠিন হওয়ায় অনেক কম লোকই প্রোগ্রামিং শিখে। তাই আপনি যদি একজন ভালো প্রোগ্রামার হতে পারেন তাহলে অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেট প্লেসে ফ্রিলান্সার হিসেবে কাজ পাওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন কোম্পানির প্রোগ্রামার হয়েও অনেক বেশি টাকা বেতনের চাকরি করতে পারবেন। দিন দিন এর চাহিদা আরো বাড়বে।

সবশেষ কথা

প্রিয় ভিজিটর,আজ আপনি আপনাদের সাথে প্রোগ্রামিং কি? প্রোগ্রামিং কত প্রকার ও কি কি? কিভাবে প্রোগ্রামিং শিখব এই সব টপিক নিয়ে আলোচনা করলাম।  আশা করি আমার এই লেখাটি পড়ে আপনি নতুন করে প্রোগ্রামিং নিয়ে জানতে পাারলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button