(Passive Income) প্যাসিভ ইনকাম কি? কেন প্যাসিভ ইনকাম আয়ের সেরা মাধ্যম

প্যাসিভ ইনকাম কি?

এককথায়, আপনি যদি কোন কাজ না করেও পূর্বের কাজ থেকে আপনার আয় হয়, তাহলে সেটাই হল প্যাসিভ ইনকাম।

আয়ের মাধ্যম প্রধানত ২ ধরনের

১. একটিভ ইনকাম

২. প্যাসিভ ইনকাম

একটিভ ইনকাম হল নির্দিস্ট পরিশ্রমের বিনিময়ে যে অর্থ দেওয়া হয়। যেমনঃ আজকে আপনি একজনের কাছে বা একটি দোকানে কাজে গেলেন যেখানে আপনাকে আপনার কাজের বিনিময়ে টাকা দিবে, কাজ না করলে দিবে না। তাই হল একটিভ ইনকাম।

প্যাসিভ ইনকাম হল পরিশ্রম না করেও যখন অর্থ পাওয়া যায়। যেমনঃ আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে। যেখান গুগল এডসেন্স যুক্ত করা আছে এবং প্রতিদিন কম-বেশি ভিজিটর আসে। এরপর এদের ব্রাউজার এ এডসেন্স এর এ্যাড শু করে। যার বিনিমে আপনার একাউন্ট এ নির্দিস্ট পরিমাণ অর্থ যোগ হয়ে যাবে৷ এর জন্য আপনাকে কিন্তু কোন পরিশ্রম করতে হয় নি।

অনেকেই হয়ত বলতে পারেন পরিশ্রম না করলে ভিজিটর গুলো আসবে কিভাবে? আপনাকে প্রথমে আপনার সাইটটাকে একটা অথোরিটি সাইট এ তৈরি করতে হবে৷ মানুষকে জানাতে হবে আপনার সাইটে আসলে তারা এই ধরনের কনটেন্ট গুলো পাবেন অথবা এসইও করে গুগলে রেঙ্কিং নিয়ে আসতে হবে। এভাবে আপনি কিছুদিন কাজ করার পর যদি একমাস কাজ নাও করেন তাও কিন্তু আপনার আয়টা একাউন্ট এ যুক্ত হয়ে যাবে।

প্যাসিভ ইনকামের জন্য সেরা কিছু মাধ্যম।

প্যাসিভ অর্থ আয়ের অনেক মাধ্যম আছে। তারমধ্যে কিছু সহজ এবং জনপ্রিয় মাধ্যম শেয়ার করলাম।

একটি অ্যাপ তৈরি করুন

বর্তমান সময়ে আমরা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে থাকি৷ আমাদের মতো আরো লক্ষ লক্ষ মানুষ এই রকম বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে থাকে। এই অ্যাপস গুলো ব্যবহারের সময় আমরা বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখে থাকি। যেই বিজ্ঞাপন গুলো থেকে ঐ অ্যাপস এর মালিক কিন্তু প্রতি মাসে ভালো পরিমাণের অর্থ আয় করে থাকেন৷

শুধু বিজ্ঞাপন নয় আপনি চাইলে ঐ অ্যাপস দিয়ে ব্যবসা করতে পারেন৷ বিভিন্ন সার্ভিস দিতে পারেন। যেটা একসময় আপনার প্যাসিভ অর্থ আয়ের সেরা মাধ্যম হয়ে যাবে। যেমনঃ ফেসবুক যেটা বর্তমানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করতেছে প্রতি মাসে। আপনিও এই ধরনের একটা অ্যাপ তৈরি করে কাজে লাগাতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা

বর্তমান বিশ্বের আয়ের অন্যতম একটি মাধ্যম। অন্য কোম্পানির যেকোন পণ্য ঐ কোম্পানির দ্বিতীয় ব্যাক্তি হয়ে কাস্টমারদের কাছে পণ্য বিক্রি করা। তাদের পণ্য আপনার মাধ্যমে বিক্রি হওয়ায় তারা নির্দিস্ট পরিমাণের কমিশন আপনাকে দিবে।

এখানে আপনি যতি তাদের পণ্য গুলো বিভিন্ন মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট লিংক গুলো শেয়ার করে রাখেন এরপর যখন কেউ ঐ লিংক থেকে গিয়ে পণ্য কিনবে তখন আপনার একাউন্ট এ কমিশন গুলো যুক্ত হয়ে যাবে। যেটাই একটা প্যাসিভ ইনকামের অন্যতম মাধ্যম।

ব্যবসায় ইনভেস্ট করা

আপনার কাছে যদি ভালো পরিমাণের অর্থ থাকে আর সেটা যদি কোন একটা ব্যবসায় শেয়ার হিসেবে ইনভেস্ট করেন তাহলে আপনি প্রতি মাসের শেষে তাদের লাভের একটি অংশ আপনি পাবেন। এতে আপনাকে কোন কাজ করতে হবে না। আপনি শুধুমাত্র ইনভেস্ট করে ঐ কোম্পানির একজন শেয়ারদার হিসেবে তাকবেন৷ এভাবেও আপনি প্যাসিভ আয় করতে পারবেন।

ছবি বিক্রি করা

ছবি তুলতে কে না ভালবাসি৷ কেউ পেশায়, কেউ নেশায়৷ আপনি কি জানেন? আপনারা তুলা ছবিটি দিয়ে অনলাইন থেকে অনেক টাকা আয় করা সম্ভব!

অনলাইনে এমন অনেক সাইট আছে যেগুলোতে আপনার তুলা ছবি গুলো তাদের কাছে লিস্টিং করে বিক্রির মাধ্যমে ভালো পরিমাণের অর্থ আয় করা যায়। এজন্য প্রথমে আপনাকে ঐ সাইট গুলোতে একাউন্ট করে কয়েকটি হাই কোয়ালিটি এর ছবি তাদের কাছে আপলোড করে দিতে হবে। এরপর তারা আপনার ছবি গুলো দেখে একাউন্টটি এপ্রুভ দিবে। পরে আপনি আরো ছবি আপলোড দিতে থাকবেন। এরপর আপনার ছবি গুলো কারো কাছে প্রয়োজন হলে তারা টাকা দিয়ে ঐ সাইট থেকে ছবি গুলো কিনে নিবে৷ যেখান থেকে আপনার নির্দিস্ট কমিশন গুলো একাউন্ট এ যুক্ত করে দেওয়া হবে৷ যত বেশি ডাউনলোড ততবেশি আয়।

এভাবে আপনি আপনার আপলোড করা ছবি গুলো থেকে ভালো পরিমাণের আয় করতে পারবেন।

ছবি আপলোড করে আয় করতে পারবেন এরকম কয়েকটি সাইট🔻

http://submit.shutterstock.com/ (সবচেয়ে জনপ্রিয়)

http://www.istockphoto.com/

http://www.canstockphoto.com/

http://www.fotolia.com/ (বাংলাদেশি সাইট)

ব্লগিং করা

ব্লগিং বর্তমান সময়ের জন্য অনেক বেশি জনপ্রিয়। মানুষ তাদের অজানা বিষয় গুলো জানার জন্য প্রতিনিয়ত অনলাইনে খুঁজছে এবং তারা বিভিন্ন সাইটে গিয়ে সেই বিষয়ের ব্লগ গুলো পড়তেছে। আর ঐ ওয়েবসাইটের মালিক তার সাইট থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে আয় করতেছে। আর আপনিও শুরু করে দিতে পারেন আপনার পছন্দের যেকোন একটি বিষয় নিয়ে। যখন কাজ করতে করতে সেই ব্লগসাইট কে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন তখন সেটাতে কাজ না করলেও আপনার ব্যবহার করা মাধ্যম গুলো থেকে আয় হয়ে যাবে।

অনলাইন কোর্স তৈরি করা

তথ্য ও প্রযুক্তির এই সময়ে প্রত্যেকে চাই নতুন নতুন বিষয় নিয়ে জানতে। এছাড়া এখন ছোট্ট বাচ্চা থেকে শুরু করে বৃদ্ধ লোক পর্যন্ত প্রত্যেকেই কম-বেশি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত। আপনার যদি তথ্য-প্রযুক্তির কোন বিষয়ে ভালো জ্ঞান থাকে তাহলে আপনি সেটা নিয়ে অনলাইন এ কোর্স চালু করে দিতে পারেন। এরপর কোর্স গুলো যাদের প্রয়োজন হবে তারা কিনে নিয়ে অনলাইন থেকে শিখবে। আপনি কোর্স গুলো একবার তৈরি করে আপনার সাইটে আপলোড করে রাখলে যতজন কোর্স কিনবে সবাই সাইটে গিয়ে কোর্স গুলো করে নিতে পারবে। এতে আপনার এক্সট্রা কোন খরচ হবে না৷

ইউটিউব এ কাজ করা

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম হল ইউটিউব। আপনি যেমন ইউটিউব এ যেকোন ভিডিও দেখতে পারবেন৷ তেমনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ইউটিউব এ কাজ করতে পারবেন। পছন্দের একটি বিষয় টিক করে একটি চ্যানেল তৈরি করে সঠিকভাবে কাজ করে গেলে একদিন চ্যানেলটা দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সেই চ্যানেল থেকে আয় করতে পারবেন।

উপরের সব মাধ্যমই প্যাসিভ আয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে প্রথম দিকে আপনাকে সঠিক নিয়মে কাজ করে যেতে হবে এবং সঠিক একটা অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে যাতে আপনি কাজ না করলেও আপনার আয় হতে থাকে।

প্যাসিভ ইনকাম কেন আয়ের সেরা মাধ্যম।

একজন ব্যাক্তি সাধারণভাবে যে কাজগুলো করে তার বিনিময়ে তাকে অর্থ দেওয়া হয়। আর সেই টাকা গুলো দিয়েই আমাদের খরচ গুলো মেটাতে হয়। এমন একটা সময় আসবে যখন আপনার কাজ করতে ইচ্চে করবে না বা কাজ করার শক্তি থাকবে না, তখন কিন্তু আপনার খরচ গুলো বন্ধ থাকবে না।

আপনার যদি প্যাসিভ আয়ের কোন মাধ্যম তৈরি করে রাখেন তাহলে আপনার ঐ মাধ্যম গুলো থেকেই অর্থ আসতে তাকবে। যেগুলো দিয়ে আপনার বিভিন্ন খরচ গুলো মিটিয়ে নিতে পারবেন৷ উন্নত দেশগুলোর প্রতিটা ব্যাক্তিই এক বা একাধিক প্যাসিভ আয়ের মাধ্যম তৈরি করে রাখেন তাদের ভবিষ্যৎ এর জন্য। আপনিও রাখতে পারেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button