ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলাপমেন্ট। কমপ্লিট বাংলা গাইডলাইন। Todaytrick

প্রতিনিয়ত আমরা অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট দেখতে পায়। এছাড়া অনলাইনে আরো মিলিয়ন মিলিয়ন ওয়েবসাইট আছে এবং অনলাইনে প্রতিনিয়ত ওয়েবসাইটের সংখ্যা বাড়তেছে।

যেগুলোর প্রত্যেকটার আলাদা আলাদা ডিজাইন আছে এবং একটি ওয়েবসাইটের কাজ এক এক ধরনের। এই ওয়েবসাইট গুলো তৈরি করার জন্য অবশ্যই একজন ওয়েব ডেভেলাপার এর প্রয়োজন। ডিজাইন করার জন্য একজন ওয়েব ডিজাইনার এর প্রয়োজন।

আজকে আমরা জানব, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলাপমেন্ট কি? কিভাবে একজন ওয়েব ডিজাইনার বা ওয়েব ডেভেলাপার হবেন।

ওয়েবসাইট কি?

অনেকগুলো ওয়েবপেইজ এর সমষ্টি হল ওয়েবসাইট।

ওয়েবসাইট দুই ধরনের

১. স্টাটিক ওয়েবসাইট
২. ডাইনামিক ওয়েবসাইট

স্টাটিক ওয়েবসাইট কি?

যে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট গুলো ব্যবহারকারী কতৃক পরিবর্তন করা যায় না। তাই হল স্টাটিক ওয়েবসাইট। স্টাটিক ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য এইচটিএমএল, সিএসএস, ব্যবহার করা হয়।

যেমন: আমার এ সাইটটি। এটিতে আপনি চাইলে কোন কনটেন্ট ডিলেট বা যুক্ত করতে পারবেন না। এরজন্য আপনাকে অবশ্যই এডমিন পেনেল এ যেতে হবে। এরপর সেখান থেকে আপনি সবকিছু করতে পারবেন।

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটের সুবিধা

  • খুব কম খরচে এ ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।
    ওয়েবসাইট উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ খুব সহজ।
  • দ্রুততা, দক্ষতা এবং নিরাপত্তার সাথে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • ওয়েবসাইটে লে-আউট গুলো সহজে পরিবর্তন করা যায়।
  • ইন্টারনেট স্পিড কম হলেও সহজে লোড নিয়ে নেয়।
  • সহজে সার্চ ইজ্ঞিন এ সহজে শু করানো যায়।

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটের অসুবিধা

  • ছোট্ট কোন সমস্যা হলে পুরো সাইটটি সমস্যা হয়ে যায়।
  • কোডিং করে সব করা হয়, আর কোডিং হল অনেক ঝামেলাপূর্ণ কাজ।
  • ওয়েবসাইটের আকার বৃদ্ধি হলে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়।
  • ব্যবহারকারী থেকে ইনপুট নেওয়ার ব্যবস্থা থাকেনা।

ডাইনামিক ওয়েবসাইট কি?

যে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট গুলো ব্যবহারকারী কতৃক পরিবর্তন করা যায়। তাই হল ডাইনামিক ওয়েবসাইট। একটা ডাইনামিক ওয়েবসাইট তৈরি করতে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি

ডাইনামিক ওয়েবসাইটের সুবিধা

  • ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী যেকোন সময় পেইজ এবং কনটেন্ট পরিবর্তন করতে পারে।
  • তথ্য ও বিষয়বস্তুর আপডেট খুব দ্রুত করা যায়।
  • নির্ধারিত ব্যবহারকারীর জন্য নির্দিষ্ট পেইজ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যায়।
  • ব্যবহারকারীর নিকট হতে ইনপুট নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
  • অনেক বেশি তথ্য বাহুল্য থাকে।
  • আকর্ষণীয় ও ইন্টারঅ্যাকটিভ লে-আউট তৈরি করা যায়।

ডাইনামিক ওয়েবসাইটের অসুবিধা

  • ডেটাবেজ ব্যবহার হয় ফলে লোড হতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়।
  • এই ধরনের সাইট তৈরি করতে বেশি খরচের প্রয়োজন হয়।
  • সাইট আপডেট ও নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক কঠিন।

ওয়েব ডিজাইন

একটা ওয়েব সাইটের যে ডিজাইন আমরা দেখি তা একজন ওয়েব ডিজাইনার তৈরি করে। একটা সাইটের ডিজাইন কেমন হবে। সাইটের লোগো কোথায় হবে। কোথায় কোন কালার হবে। ইমেজ গুলো কিভাবে দেখাবে। কনটেন্ট গুলো কিভাবে কোথায় থাকবে।

এই কাজগুলো একজন ডিজাইনার করে থাকেন। এর জন্য বিভিন্ন ফটোশপ টুলস এবং বিভিন্ন মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ html, css ব্যবহার করা। আর এই কাজগুলো একজন ওয়েব ডিজাইনার করে থাকেন।

ওয়েব ডেভেলাপমেন্ট

আমরা যখন কোন ওয়েবসাইট এ যাই তখন আমরা সেই ওয়েবসাইটের ডিজাইন এবং কনটেন্ট গুলো দেখি। এছাড়া আরো অনেক বাটন, লিংক, আরো অনেক কিছু থাকে।

আমরা যখন কোন বাটন এ ক্লিক করি তখন অন্য কোন পেইজে বা বাটনটি যে কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে সেই কাজটি হয়ে থাকে। মনে করেন: আপনি এই আর্টিকেল এ যদি একটি কমেন্ট করেন তাহলে সেই কমেন্টটি আমার এডমিন প্যানেল এর কাছে চলে যাবে।

এরপর যখন সেটি এপ্রুভ করা হবে তখন সেটা এখানে শু করবে। অথবা আপনি যদি অন্য একটা আর্টিকেল এ ক্লিক করেন ঐ আর্টিকেল টি দেখাবে। এই যে পুরো কাজ গুলো সঠিকভাবে হচ্ছে এর জন্য এই সাইটের ব্যাকেন্ড এ কোডিং এর মাধ্যমে সব দেয়া আছে। এজন্য সব সঠিকভাবে হচ্ছে।

এই কাজগুলো একজন ওয়েব ডেভেলাপার করে থাকেন। একটা ওয়েবসাইট ডেভেলাপ করার জন্য আপনাকে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ (PHP, ASAP, PAYTON, NOTEJS) গুলো জানতে হবে তাহলই আপনি একটি ওয়েবসাইট ডেভেলাপ করতে পারবেন। ওয়েবসাইট ডেভেলাপ করার কাজগুলোই হল ওয়েব ডেভেলাপমেন্ট।

ফ্রন্ট টেন্ড ডেভেলাপার

একটি ওয়েবসাইটের ফ্রন্ট এর যে কাজগুলো (যেমনঃ ডিজাইনিং, স্টাইলিং, কোডিং, ইত্যাদি) এ কাজগুলো যে ব্যাক্তি করেন। তাকে একজন ফ্রন্ডটেন্ট ডেভেলাপার বলা হয়।

ব্যাকেন্ড ডেভেলাপার

একটি ওয়েবসাইটের মেন্টেইনিং, ডেভলাপ করা, কনটেন্ট মেনেজমেন্ট, সিস্টেম এনালাইসিস, এই ধরনের কাজগুলো যে করেন। তাকে ব্যাকেন্ড ডেভেলাপার বলা হয়।

ফুলস্টক ওয়েবডেভেলাপার

একটি ওয়েবসাইটের ফ্রন্ট এবং ব্যাকেন্ড এর কাজগুলো একসাথে যে ব্যাক্তি করেন। তাকে একজন ফুলস্টক ওয়েব ডেভেলাপার বলা হয়।

একজন ফুলস্টক ডেভেলাপার হতে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ডিজাইনিং, আরো অনেক কিছু জানতে হয়। এজন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন হয় এবং পাশাপাশি ২-৩ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।

কিভাবে একজন ওয়েবডেভেলাপার হবেন?

ওয়েব ডেভেলাপার হওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে টিক করতে হবে আপনি কোনটি শিখবেন। ওয়েব ডিজাইন, ডেভলাপমেন্ট বা ফুলস্টক ডেভেলাপার হবেন। এরপর আপনাকে সেই বিষয়ের উপর রিসার্চ করতে হবে। ভালো কোন ট্রেনিং সেন্টার থেকে ট্রেনিং করতে পারেন অথবা কোথাও কোর্স করতে পারেন।

আপনি চাইলে ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখেও শিখতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে সঠিক গাইডলাইন এবং হেল্প নাও পেতে পারেন। এভাবে ভালো করে শিখার পর আপনি বিভিন্ন ছোট-ছোট প্রবলেম সলভ করেন। ৩-৫ টা বড় প্রজেক্ট তৈরি করেন। নিজের একটা পোর্টফলিও তৈরি করেন।

এরপর মার্কেটপ্লেস এ বা লোকল মার্কেট থেকে কাজ নিয়ে কাজ করতে থাকুন। দিনশেষে নিজের একটা সফল ক্যারিয়ার তৈরি করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

0 Shares
Share via
Copy link
Powered by Social Snap