Trending

এসইও (SEO) কি? কিভবে এসইও শিখবেন? সম্পূর্ণ বাংলা গাইডলাইন

বর্তমান এই ডিজিটাল সময়ে সবকিছু সার্চ এর মাধ্যমে হচ্ছে, আমাদের জানা-অজানা সকল বিষয় আমরা সার্চ বক্স এর মাধ্যমে খুজতেছি। আর এই সার্চ বক্স গুলো যেন সঠিক তথ্য ব্যবহারকারীদের দিতে পারে এর জন্য এসইও করার প্রয়োজন হয়। চলুন জেনে নি, এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত

Table of Contents

এসইও কি?

SEO = Search Engine Optimization.

এককথায়, আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইটকে অপ্টিমাইজড করে সার্চ ইজ্ঞিন এ পদর্শন করানোই হল সার্চ ইজ্ঞিন অপ্টিমাইজেশন (এসইও)।

 

এসইও কেন প্রয়োজন?

বর্তমানে প্রত্যেকেই কম-বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং বেশিরভাগ কাজই ইন্টারনেট এর মধ্যে করা যাচ্ছে। যেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে সার্চইজ্ঞিন গুলো। মানুষ সার্চইজ্ঞিন গুলো ব্যবহার করে নিজেদের অজানা বিষয় গুলো জানছে। নিজেদের কাজগুলো সম্পূর্ণ করতেছে।

গ্রাহক তাদের প্রয়োজনে সার্চইজ্ঞিন এ সার্চ করতেছে। এরপর তাদের সামনে সবচেয়ে সেরা রেজাল্ট গুলো দেখানো হচ্ছে।

মনে করেন, আপনার একটি ব্লগসাইট/সার্ভিস রিলেটেড ওয়েবসাইট আছে। এখন আপনার সাইটটিকে সবারকাছে জানানো প্রয়োজন। আপনার সাইটে ভিজিটর নিয়ে আসা প্রয়োজন। এজন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এসইও।

যদি কেউ ডিজিটাল মার্কেটিং সার্ভিস নিয়ে গুগলে সার্চ করে আর সেই সার্ভিস গুলো যদি আপনি দেন। আপনার সাইটে যদি এই সার্ভিস এর উপর কোন কনটেন্ট বা পেইজ তাকে আর সেটাকে যদি সঠিকভাবে সার্চ ইজ্ঞিন অপ্টিমাইজ করা থাকে তাহলে সেটা সার্চ রেজাল্ট এ দেখাবে। এরপর গ্রাহক আপনার সাইটে গিয়ে ভালো লাগলে আপনাদের সার্ভিসটি নিতে পারে।

এছাড়া ব্লগসাইটে ও সমান। আপনার কনটেন্ট গুলো যদি রেঙ্কিং এ না আসে আপনি কোন ভিজিটর পাবেন না। আর ভিজিটর ছাড়া একটি ওয়েবসাইটের কোন মূল্য নেই। ভিজিটর ছাড়া আপনার কোনভাবেই সাইট থেকে আয় করা সম্ভব নয়।

সুতরাং, অনলাইনের বেশিরভাগ কাজের ক্ষেত্রে এসইও করা প্রয়োজন।

এসইও এর প্রকারভেদ।

সাধারণত তিন প্রকার

১. হোয়াইট-হেট

২. ব্ল্যাক-হেট

৩. গ্রে-হেট

হোয়াইট-হেট

এসইও কাজের ক্ষেত্রে যখন সবকিছু সঠিকভাবে, সঠিক নিয়মে করা হবে সেটায় হল, হোয়াইট-হেট এসইও. যেমন: নিয়ম অনুযায়ী মেটা ডেসক্রিপশন হয় ১৫০ শব্দের। টাইটেল এ মেইন কীওয়ার্ডটা একবার ব্যবহার করা হয়। আপনি যখন এই নিয়মগুলো মেনে সঠিকভাবে কাজ করবেন তখন সেটা হবে হোয়াইট-হেট এসইও।

ব্ল্যাক-হেট

এসইও এর কাজের ক্ষেত্রে যখন সকল নিয়ম ভঙ্গ করে কাজ করা হয়। তখন সেটা হবে ব্ল্যাক-হেট এসইও।

যেমন: মেটা ডেসক্রিপশন ১৫০ ওয়ার্ডের বেশি দেওয়া। অবৈধ ব্যাকলিংক নেওয়া। স্প্যামিং করা। বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে রেঙ্কিং এ আসা ইত্যাদি।

গ্রে-হেট

হোয়াইট-হেট এবং ব্ল্যাক-হেট এর সম্মিলিতভাবে যে এসইও এর কাজ করা হয়। তা হল গ্রে-হেট এসইও।

আরো পড়ুনঃ ডিজিটাল মার্কেটিং কি? Digital Marketing bangla guideline

ধরনের দিক দিয়ে আবার তিন ধরনের।

১. অন-পেইজ

২. অফ-পেইজ

৩. টেকনিকাল

অন-পেইজ এসইও কি

অন পেইজ বলতে একটা পেইজের মধ্যে এসইও এর যে কাজগুলো করা হয়, তাকে বুঝায়।

অন-পেইজ এসইও এর ক্ষেত্রে যে কাজগুলো করতে হয়।

  • টাইটেল এ মেইন কিওয়ার্ড ব্যবহার করা।
  • টাইটেল ৬০ কারেক্টার এর মধ্যে রাখা।
  • সাব-হেডিং এ কিওয়ার্ড ব্যবহার করা।
  • মেটা-ডেসক্রিপশন এ কিওয়ার্ড ব্যবহার করা।
  • মেটা-ডেসক্রিপশন ১৫০ ওয়ার্ড এর মধ্যে রাখা।
  • কনটেন্ট এর প্যারাগ্রাফ গুলো ছোট ছোট করে রাখা।
  • ইউআরএল এ কিওয়ার্ড ব্যবহার করা।
  • ইউআরএল ছোট করে রাখা।
  • ইমেইজ অপ্টিমাইজড করা।
  • ইমেইজ সাইজ ছোট করা।
  • ইমেজ এ এলট ট্যাগ ব্যবহার করা।
  • কিওয়ার্ড ডেনসিটি না করা।
  • ইন্টারনাল লিংক ব্যবহার করা।
  • এক্সটারনাল লিংক ব্যবহার করা।

এ সকল বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অন-পেইজ এর চেকলিস্ট টি পড়ুন।

অফ পেইজ এসইও কি

একটা ওয়েবসাইটের বিশ্বস্ততা, গুণাগুণ, ব্র্যান্ডিং এবং রেঙ্কিং বাড়াতে এসইও এর যে কাজগুলো করা হয়, তাকে অফ-পেইজ এসইও বলে। এটাকে লিংক বিল্ডিং ও বলা হয়।

অফ-পেইজ এসইও এর ক্ষেত্রে যে কাজগুলো করতে হয়।

  • গেস্ট পোস্টিং করা।
  • অথোরিটি সাইট থেকে লিংক নেওয়া।
  • সঠিকভাবে ব্যাকলিংক নেওয়া।
  • ডু-ফলো ব্যাকলিংক নেওয়া।
  • ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে লিংক নেওয়া।

টেকনিকাল এসইও কি

একটি সাইটের বিভিন্ন টেকনিকাল সমস্যাগুলো সমাধান করতে। ইউজার এবং সার্চইজ্ঞিন এর কাছে সাইটকে আরো সহজভাবে উপস্থাপন করতে যে এসইও করা হয়। তাই হল টেকনিকাল এসইও।

টেকনিকাল এসইও এর ক্ষেত্রে যে কাজগুলো করতে হয়।

  • সাইট স্পিড বৃদ্ধি করা।
  • সাইটকে মোবাইল ফ্রেন্ডলি করা।
  • সহজ নেভিগেশন এবং রেসপন্সসিভ ডিজাইন ব্যবহার করা।
  • বিভিন্ন ইরোর গুলো ঠিক করা।
  • ক্রলিং এবং ইনডেক্সিং প্রবলেম টিক রাখা।

আরো পড়ুনঃ ফ্রিলান্সিং কিভাবে শিখবো এবং কিভাবে শুরু করবো? বিস্তারিত

সার্চইজ্ঞিন কিভাবে কাজ করে।

অনেকেই মনে প্রশ্ন তাকে সার্চ ইজ্ঞিন গুলো কিভাব কাজ করে? সাধারণত সার্চইজ্ঞিন গুলো তিনভাবে কাজ করে।

১. ক্রলিং

২. ইনডেক্সিং

৩. ফলাফল প্রদান

ক্রলিং

প্রথমে আপনাকে আপনার ওয়েবসাইট এর সাইটম্যাপটি তাদের ওয়েবমাস্টার টুল এ সাবমিট করতে হবে। এরপর সেই ম্যাপ অনুযায়ী সার্চইজ্ঞিন গুলোর বট এসে প্রত্যেকটি লিংক চেক করে এবং তাদের ডাটাবেজ এ সেইভ করে রাখে।

ইনডেক্সিং

এরপর ওয়েবসাইটের প্রতিটি পেইজ, কনটেন্টকে তারা নির্দিষ্ট সার্চ কোয়েরি অনুযায়ী ইনডেক্স করে নেই।

ফলাফল প্রদান

এরপর যখন ঐ কোয়েরি অনুযায়ী কেউ সার্চ করবে কনটেন্ট এবং সাইটের অথরিটি অনুযায়ী কনটেন্ট গুলো সার্চ রেজাল্ট পেইজে দেখানো হয়।

সাধারণত সার্চইজ্ঞিন গুলো এভাবেই কাজ করে। এছাড়া প্রতিটি সার্চইজ্ঞিন এর নির্দিস্ট কিছু সিস্টেম আছে যেগুলো সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়।

এছাড়া সার্চইজ্ঞিন প্রতিষ্ঠান গুলো চেস্টা করতেছে তাদেরকে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট গুলো গ্রাহকদের কাছে দেখানোর।

যেমন: আপনি যদি গুগল এ Weather লিখে সার্চ করেন তাহলে আপনার জায়গার নির্দিস্ট তাপমাত্রা আপনাকে দেখাবে।

Calculator লিখে সার্চ করলে ক্যালকুলেটর চলে আসবে অথবা কোন সার্ভিস লিখে সার্চ করলে আপনার আশেপাশের সার্ভিস সেন্টার গুলো দেখাবে। এভাবেই সার্চইজ্ঞিন গুলো গ্রাজকের কোয়েরি অনুযায়ী সেরা রেজাল্ট টাই দেখায়। এজন্য কনটেন্ট এর ধরন যেমন হবে সে অনুযায়ী এসইও করতে হবে।

কিভাবে এবং কোথায় থেকে শিখবেন?

এসইও যদি আপনি শিখতে চান তাহলে আপনাকে সবসময় আপডেটেট তাকতে হবে। কারণ, এসইও হল একটা টেকনিক্যাল বিষয় যেটা যেকোন সময় পরিবর্তন হয়। এসইও আপনি অনেক ভাবে শিখতে পারবেন। যেমন: অনলাইনে কোর্স করা। ট্রেনিং সেন্টার থেকে শিখা। হাতে কলমে শিখা। নিজে নিজে শিখা।

অনলাইনে কোর্স করা।

এসইও শিখার জন্য আপনি অনলাইনে অনেক কোর্স পাবেন। সেখান থেকে ভালোমানের একটা কোর্স করে নিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অযথা কোর্স করে সময় নস্ট করার প্রয়োজন নেই। যেখান থেকেই যে কোর্সটি করবেন সেখানে বিস্তারিত জেনে তারপর শুরু করুন।

ট্রেনিং সেন্টার থেকে শিখা।

বাংলাদেশে এসইও শেখানোর জন্য অনেক ট্রেনিং সেন্টার আছে। যেখানে অনেক ভালো-ভালো ট্রেইনার দেরকে দিয়ে ট্রেনিং করানো হয়। আপনিও যেকোন একটা ট্রেনিং সেন্টার এসইও শিখতে পারবেন।

হাতে কলমে শিখা।

অনেক মেন্টর আছেন যারা প্রফেশনালভাবে এই ফিল্ড এ কাজ করেন। যাদের ২-৩ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। এইরকম অনেকেই আছেন যারা তাদের কাজগুলো কাউকে শিখাই। এইধরনের কারো কাছ থেকে যদি শিখতে পারেন তাহলে সবচেয়ে ভালো হবে। কারণ, সে এই কাজগুলো করতেছে। কোথায় কি কি ভুল হবে? কোন কাজটা কিভাবে করলে সবচেয়ে ভালো হবে। এই বিষয়গুলো তার কাছথেকে প্র্যাকটিকালি শিখে/জেনে নিতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ অনলাইন থেকে ইনকাম করার সেরা ২৫ ‍টি পদ্ধতি

নিজে নিজে শিখা।

বর্তমানে অনলাইনে রিসোর্স বা গাইডলাইন এর অভাব নেই। আপনাকে একটু খুজে নিতে হবে। আপনি চেস্টা করলে ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে বা বিভিন্ন ব্লগ পড়ে এসইও শিখতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে প্রতিটা বিষয় খুজে নিতে হবে এবং সময় দিয়ে সবকিছু শিখে নিতে হবে।

Moz এর বিগেনার এসইও গাইডলাইনটি পড়ে নিতে পারেন।

Beginner Guide to SEO.

গুগলের ফ্রি কোর্সটি করে নিন।

Google SEO Fundamentals.

ইয়োস্ট এর ফ্রি এসইও কোর্স।

SEO For Beginner’s by Yoast Academy

এসইও শিখার জন্য নিছের ব্লগ ফলো করতে পারেন।

https://searchengineland.com/

https://ahrefs.com/blog

https://moz.com/blog

https://www.searchenginewatch.com/

https://www.searchenginejournal.com/

https://www.seroundtable.com/

https://yoast.com/seo-blog

https://backlinko.com/

https://blog.hubspot.com/

https://neilpatel.com/blog/

এসইও শিখতে নিছের ইউটিউব চ্যানেল গুলো ফলো করতে পারেন।

Ahrefs

Neilpatel

GotchSEO

SEJ

Moz

Brian Dean

Craig Campbell SEO

David Murray

Chase Reine

Matt Diggity

সর্বশেষ:

এসইও হল এমন একটা কাজ যেটার চাহিদা দিন দিন বাড়তেই তাকবে। যতদিন ইন্টারনেট তাকবে ততদিন মানুষ সার্চ করবে। তখনই এসইও করতে হবে। এটা এমন একটা বিষয় যেটা শিখে এটা দিয়েই নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করে নিতে পারবেন।

এছাড়া সার্চ ইজ্ঞিন অপ্টিমাইজেশন নিয়ে কাজ করলে আপনাকে সবসময় আপডেট থাকতে হবে। কেননা সার্চ ইজ্ঞিন গুলোতে বিভিন্ন আপডেট আসে এরপর অনেক কিছু পরিবর্তন হয়। যেগুলো আপনাকে জানতে হবে। উপরের ব্লগ গুলো ফলো করলেই বিভিন্ন আপডেট বা নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এটা ছিল এসইও নিয়ে একটা গাইডলাইন, এছাড়া আরো বিস্তারতি জানতে চাইলে আমাদের Digital learning club ইউটিউব চ্যনেলটি ফলো করতে পারেন।

এছাড়া আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন। এই গাইডলাইনটি উপকারী মনে হলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button