Online Trick

ইংরেজি জানা কতটুকু প্রয়োজন এর ব্যবহার এবং গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত জানুন

বাংলাদেশের ভাষা বাংলা হলেও প্রতিদিন শতশত মানুষ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরিটা পাচ্ছেন না শুধুমাত্র ইংরেজিতে দূর্বলতার কারনে। অনেকেই আছেন তাদের শিক্ষিত বন্ধুদের সাথে মেসেজ করতে পারে না শুধুমাত্র ইংরেজি না জানার কারনে। অনেকেই আছেন যাদেরকে ইংরেজি বললে তারা গালি দিচ্ছে মনে করে, কারন তারা ইংরেজি জানে না। এমন আরো হাজারো সমস্যা আমাদের সাথে বা আশে-পাশের অন্য কারো সাথে ঘটছে শুধুমাত্র ইংরেজি না জানার কারনে। বর্তমান যুগ ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগ। আর এই যুগে ইংরেজি ভাষা জানা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কারন প্রযুক্তির উৎকর্ষ ইংরেজি।  ইংরেজিতে দক্ষ হলে ব্যাবসা, বাণিজ্য, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ও অন্যান্য সকল অবস্থায় কাজ করতে সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত সম্মানও পাওয়া যায়।

আজকে আমরা জানব ইংরেজি জানার গুরুত্ব। এর ব্যবহার, প্রয়োজনীয়তা এবং আরো অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সমূহ নিয়ে।

প্রথমে আমরা জানব ইংরেজি জানার গুরুত্ব

প্রত্যেক জিনিসের ই এক বা একধিক গুরুত্ব থাকে। ঠিক তেমনি ইংরেজির ও একাধিক গুরুত্ব রয়েছে। যেটা আপনারা ও হয়ত কমবেশি জানেন৷ আমি যদি এখানে লিখতে থাকি লিখে শেষ করতে পারব না৷ তাই সংক্ষেপে বললাম। পৃথিবীতে ৩০০+ ভাষা আছে যার মধ্যে ইংরেজি হল আন্তর্জাতিক ভাষা। আপনি যদি ইংরেজি না জানেন তাহলে আপনি শিক্ষা-দিক্ষায়, ব্যবসা-বাণিজ্যে, এছাড়াও দৈনন্দিন চলাচলেও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। আপনি যদি দেখেন আপনার ব্যবহার করা প্রতিটা জিনিসেই কিন্তু ইংরেজি লিখা রয়েছে। আপনি যদি ইংরেজি না জানেন তাহলে আপনি ঐ জিনিসটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন না। এছাড়া অন্যান্য সবক্ষেত্রে ও আপনি ইংরেজি ই দেখতে পাবেন। আপনি যদি কোথাও চাকরি করতে জান অথবা কোন ব্যবসা করতে ছান তাহলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষতা থাকতে হবে। এতএব বলা যায়, ইংরেজি জানার গুরুত্ব অনেক বেশি।

উপকারীতা

ভাষা হচ্ছে মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। সব ভাষারই কম বেশি উপকারীতা রয়েছে। প্রত্যেক দেশের নিজস্ব একটা ভাষা রয়েছে। তার মধ্যে ইংরেজি একটা ভাষা। যাকে আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে গণ্য করা হয়। এই একটা ভাষা জানলে আমাদের জীবন হবে অনেক সহজ। এই ভাষার উপকারীতা অপরিসীম। ইংরেজি জানলে আপনি সারা বিশ্বের সাথে কানেকশন তৈরি করতে পারবেন৷ যেকোন সমস্যার সমাধান সহজেই পাবেন৷ এছাড়া দৈনন্দিন চলাচলেও বিভিন্ন উপকারিতা পাচ্ছেন ই।

সুযোগ-সুবিধা

ইংরেজি শিখা ও জানা থাকলে সকল কিছুতে সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। যেকোন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা- বিশ্ববিদ্দ্যালয় ও সব জায়গায় প্রথমে ইংরেজিতে নাম গ্রাম জিজ্ঞেস করে থাকে। তাছাড়াও বিশ্ববিদ্দ্যালয়ে ইংরেজির উপর ভিত্তি করে আলাদা মার্ক দেওয়া হয়ে থাকে এবং ভালো সাবজেক্ট দিয়ে থাকে। চাকরি ক্ষেএেও ইংরেজিতে ভাইবায় ভালো হলে চকরির লেবেল উপরে উঠে। ইংরেজিতে ভালো হলে সব কিছুতে নিজের যোগ্যতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

ইংরেজি এর ব্যবহার

ইংরেজি এর ব্যবহার সর্বত্র। যেখানে যাবেন সেখানেই ইংরেজি এর ব্যবহার দেখতে পাবেন। নিছে কয়েকটি মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করা হল যেগুলোতে ইংরেজি এর৷ ব্যবহার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন দেশে পড়ার সুযোগ

প্রত্যেক দেশের নিজস্ব একটা ভাষা রয়েছে। একজন মানুষের পক্ষে সব ধরনের ভাষা জানা সম্ভব নয়। আর ইংরেজি ভাষাকে বলা হয় আন্তরজাতিক ভাষা। এই ভাষার মাধ্যমে সকল দেশের মানুষের সাথে ভাব আদান প্রদান করতে পারে। ইংরেজি শিখার গুরুত্ব তখন বুঝা যায় যখন বহির্বিশ্বের মানুষের সাথে কথা বলা হয়। ইংরেজি শিখার ফলে দেশের বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্দ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। ইংরেজি জানার ফলে বিদেশের বড় বড় বিশ্যবিদ্যালয় গুলো অনেক ভালো ডিগ্রি অর্জন করতে পারা যায়।

মুবি ও খবরাখবর

বিভিন্ন দেশের খবরাখবর জানতে হলে ইংরেজি শিখার গুরুত্ব অপরিসীম। আর ইংরেজি জানা থাকলে সকল ধরনের খবর শুনতে ও জানতে পারে বহির্বিশ্বের বর্তমান কি অবস্থা। হলিউড মুবি সাধারণত ইংরেজিতে হওয়ায় আমরা কিছু বুঝি না। ফলে অন্য জনের বা সাবটাইটেল এর সাহায্য নিতে হয়। যদি ইংরেজি জানা থাকে তাহলে এই ধরনের ইংরেজি মুবি, ড্রামা, নিউজ সহজে বুঝতে পারা য়ায় এবং আনন্দ উপভোগ করা য়ায়।

ব্যাবসার ক্ষেএে

ব্যবসা ক্ষেত্রে ইংরেজি এর ব্যবহার সর্বত্র। পৃথিবীতে যত বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে তার বেশিরভাগই উন্নত দেশে। যুক্তরাষ্ট্রের, আমেরিকা, ইউরোপ ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সচরাচর ভাষা ইংরেজি। দীর্ঘকাল থেকে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে ব্যাবসা করার ফলে সচরাচর যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য ইংরেজি বলার প্রয়োজনিয়তা বেশি। তাই বিশ্বব্যাপি ব্যাবসা করার ক্ষেএে ইংরেজি জানার গুরুত্ব অপরিসীম।

আরো পড়ুনঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial intelligence) কি? কিভাবে এর ব্যবহার, উপকারিতা, অপকারিতা বিস্তারিত

ভ্রমনে

বিশ্বজুড়ে ব্যাবহ্রত ভাষার মধ্যে ইংরেজি হল একটা ভাষা। যদি ইংরেজি ভাষা জানা থাকে তাহলে ভ্রমন হবে আনন্দময়। কারন অনায়াসেই যেকোনো জায়গায় যেতে পারবে ও যেকোনো বয়সের মানুষের সাথে কথা বলা যাবে যদি ইংরেজিতে পারদর্শী হয়। উদাহরণ হিসেবে—দেশের বাইরে, বিমানবন্দরে ও বিমানে, যানবাহনে, ট্রেনে, বন্ধুদের সাথে। তাছাড়াও সময়সূচি, তথ্য, সঠিক সন্ধান বুঝতে ইংরেজি গুরুত্ব অনেক বেশি।

উন্নত ভাষা হিসেবে

বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তি বা ইন্টারনেটের যুগ। আর ইন্টারনেটের ভাষা হলো ইংরেজি। সমস্ত কিছু সেটিং করা থাকে ইংরেজিতে। ইউটিউব, গুগল, ফেসবুক, প্লে স্টুর সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, ম্যাগাজিন ইত্যাদি সব কিছু ইংরেজিতে উপস্থাপন করা থাকে। ইংরেজি হল আন্তর্জাতিক ভাষা।যদি ইংরেজি না জানে তাহলে তথ্য গুলো যথারীতি উপস্থাপন করতে পারবেনা। তাই বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও ইন্টারনেটের সাথে কাজ করতে হলে উন্নত ভাষা ইংরেজি শিখার কোনো বিকল্প নেই।

ফ্রিলান্সিং

ফ্রিলান্সিং ক্ষেত্রে ইংরেজি এর ব্যবহার সর্বোচ্ছ। যেহেতু ফ্রিলান্সিং করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষার মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয় বা মেসেজ করতে হয়৷ সেখানে ইংরেজিটা প্রধান হিসেবে কাজ করে।

ফ্রিলান্সিং এর প্রসার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি যদি যেকোন কাজে দক্ষ হলে বাড়িতে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে ফ্রিলান্সিং এর কাজ করে টাকা উপার্জন করতে পারবে। এখানে আপনি চাইলে ট্রান্সলেটর, ট্রান্সক্রিপশনিস্ট এর কাজও করতে পারবেন। যদি ইংরেজিতে দক্ষ হয় বিশ্বের সমস্ত খবর জেনে ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ ফ্রিলান্সিং কি? ফ্রিলান্সিং কিভাবে শিখবেন? কিভাবে একজন সফল ফ্রিলান্সার হবেন।

মেধাশক্তির বিকাশ

ইংরেজি শিখার মজার বিষয় হচ্ছে এর মাধ্যমে মেধাশক্তির বিকাশ ঘটায়। ইংরেজি শিখা ও বলার মাধ্যমে অনেক কিছু জানা যায়। বলা ও শিখার ফলে অজানা অনেক কিছু জানা যায়। ভাষা হিসেবে সকলের সঙ্গে কথা বললে মেধাশক্তির বিকাশ ঘটে। বৃদ্ধ বয়সে অনেক কিছু ভুলে যাই। যদি ভাষা হিসেবে ব্যাবহার করে তাহলে মেধাশক্তির যেই বিকাশ ঘটে সেটা গভীরভাবে গেতে থাকে।

কিভাবে ইংরেজি শিখবেন?

আগ্রহ/ইচ্ছা

যেকোন কিছু শিখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিজের আগ্রহ। ইংরেজি শিখার জন্য আপনার আগ্রহ থাকতে হবে। এরপর সেই আগ্রহটাকে বাস্তবে পরিণত করতে চেস্টা করতে হবে৷ মনে করুন, আপনার আম্মু আপনাকে ভাত খাওয়ার জন্য ডাকতেছে। এখন আপনার পেটের মধ্যে খুদা নাই বা খাওয়ার কোন ইচ্ছে নাই। এখন আপনার আম্মু যদি শতবার বললেও এখন কি আপনার খেতে ইচ্ছে করবে।

চেস্টা

আপনি শুধু আমি ইংরেজি শিখতে চাই বা আমার ইংরেজি শিখার অনেক ইচ্ছা আছে এগুলো বলে বসে আছেন। কিন্তু আপনি এখনো পর্যন্ত একটা শব্দও শিখেন নাই, তাহলে কি আপনার শিখা হবে। আপনাকে আপনার ইচ্ছাটাকে পূরণ করার জন্য চেস্টা করতে হবে৷ প্রতিদিন ইংরেজি শব্দ গুলো শিখতে হবে৷ ইংরেজি লিখার বা বলার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই আপনি আস্তে আস্তে ইংরেজিতে এক্সপার্ট হয়ে উটবেন।

কারন

কোন একটা কাজ তখনই সঠিকভাবে সম্পূর্ণ হয় যখন সেটার নির্দিস্ট একটা কারণ থাকে৷ ধরুন, আপনি লাইব্রেরিতে যাচ্ছেন বই কিনতে। এটা একটা নির্দিস্ট কারণ৷ আপনি এখন টিকি বই কিনে নিয়ে বাড়িতে চলে আসবেন। ঠিক তেমনি ইংরেজির ক্ষেত্রেও কোন না কোন কারণ থাকতে হবে যেমন ধরুন, কোন ভালো বিশ্ব-বিদ্যালয় এ পড়া। সবার সাথে ইংরেজিতে কমিউনিকেশন করা৷ ভালো কোন চাকরি পাওয়া ইত্যাদি।

বাস্তবতা

যেকোন কাজকে বাস্তবতার সঙ্গে মিশিয়ে করার চেস্টা করুন। ধরুন, আপনি প্রতিদিন ইংরেজি এর বিভিন্ন শব্দ, গ্রামার শিখতেছেন। এখন যদি আপনি এগুলো প্র্যাকটিস না করেন তাহলে আপনার মনে থাকবে না৷ এর সহজ সমাধান হল বাস্তবিক দিক থেকে ব্যবহার করা। যেমনঃ আপনি কাউকে বলতেছেন, দোস্ত কেমন আছিস৷ এখন সেটাকে ইংরেজিতে চিন্তা করুন। ইংরেজি হবে How are you friend. এভাবে ১-২দিন ১-২ মাস চেস্টা করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি একদিন ইংরেজিতে অনেক বড় একজন দক্ষ কিছু হতে পারবেন।

শেষ কথা

আমরা জানি ইংরেজি একটি বহুল ব্যাবহৃত প্রচলিত ভাষা। মাতৃভাষার মত ইংরেজি ভাষাও শিখার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ মাতৃভাষা নিজের দেশের মানুষের সাথে কথা বলা যায়। ইংরেজি ভাষা দিয়ে পুরো বিশ্বের মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে। ব্যাবসা-বাণিজ্য, পড়ালেখা, আলাপ-আলোচনা, ভ্রমণ ও বিনোদন ইত্যাদি সমস্ত কিছু এই ইংরেজি ভাষা সহজ করে দিচ্ছে। ফলে ইংরেজি জানার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই আমাদের সবাইকে ইংরেজি জানতে হবে আর জানতে হলে শিখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button